Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সৌদির চার স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গত ৪৮ ঘণ্টায় চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর, ইয়ানবুতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনা, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব হামলার কথা জানান। তাঁর দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) ব্যবহার করে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর আগুন লাগার এবং দাম্মাম বিমানবন্দরে আকাশপথের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথাও জানান এই মুখপাত্র।

তবে রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একজন সৌদি নাগরিক এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও মদিনার আকাশসীমায় চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদির পূর্বাঞ্চলেও আরও চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে জোটটি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে যে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাত তা নতুন করে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সৌদির চার স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

Update Time : ০৫:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গত ৪৮ ঘণ্টায় চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর, ইয়ানবুতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনা, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব হামলার কথা জানান। তাঁর দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) ব্যবহার করে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর আগুন লাগার এবং দাম্মাম বিমানবন্দরে আকাশপথের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথাও জানান এই মুখপাত্র।

তবে রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একজন সৌদি নাগরিক এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও মদিনার আকাশসীমায় চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদির পূর্বাঞ্চলেও আরও চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে জোটটি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে যে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাত তা নতুন করে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।