Dhaka ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন

সিলেট প্রতিনিধি- দৈনিক প্রান্তিক।

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ও বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী ১৫৭ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে প্রধান আসামি এসআই আকবরসহ পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি হলেন বহিষ্কৃত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী। রায় ঘোষণার দিন তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস। অপর তিন আসামি এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তন্নী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে আকবরকে প্রধান আসামি করা হয়।

অন্য আসামিরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার দিন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। তবে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনের পলাতক থাকার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রায় শুনে তিনি কী করবেন, যাঁরা তাঁর ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাঁরা তো পালিয়ে গেছেন। আসামিরা শাস্তি না পেলে দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা ও কষ্ট বিফলে যাবে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন

Update Time : ১১:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধি- দৈনিক প্রান্তিক।

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ও বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী ১৫৭ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে প্রধান আসামি এসআই আকবরসহ পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি হলেন বহিষ্কৃত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী। রায় ঘোষণার দিন তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস। অপর তিন আসামি এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তন্নী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে আকবরকে প্রধান আসামি করা হয়।

অন্য আসামিরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার দিন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। তবে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনের পলাতক থাকার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রায় শুনে তিনি কী করবেন, যাঁরা তাঁর ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাঁরা তো পালিয়ে গেছেন। আসামিরা শাস্তি না পেলে দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা ও কষ্ট বিফলে যাবে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।