Dhaka ১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটাধিকার রক্ষায় সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-দৈনিক প্রান্তিক।

ভারতের জনগণের ভোটাধিকার ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া (INDIA)। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষের মধ্যেই নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা এলো।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কেরালার আলাপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কর্মসূচির কথা জানান সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাতে জোটের নেতারা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গেও তাঁদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করছে। এ পরিস্থিতি ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং সেই কারণেই দিল্লিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

এদিকে, শনিবার রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, মেট্রোর একাধিক স্টেশনে কার্যক্রম সীমিত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের খবর পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকেও আটক করা হয়।

বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে ভোটার তালিকা যাচাইকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

কেরালায় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম নিয়েও কংগ্রেস সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান বেণুগোপাল। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভে ইন্ডিয়া জোটের অংশগ্রহণ ও পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ; অকৃতকার্য প্রায় ৬ লাখ

ভোটাধিকার রক্ষায় সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

Update Time : ০২:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-দৈনিক প্রান্তিক।

ভারতের জনগণের ভোটাধিকার ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া (INDIA)। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষের মধ্যেই নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা এলো।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কেরালার আলাপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কর্মসূচির কথা জানান সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাতে জোটের নেতারা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গেও তাঁদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করছে। এ পরিস্থিতি ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং সেই কারণেই দিল্লিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

এদিকে, শনিবার রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, মেট্রোর একাধিক স্টেশনে কার্যক্রম সীমিত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের খবর পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকেও আটক করা হয়।

বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে ভোটার তালিকা যাচাইকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

কেরালায় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম নিয়েও কংগ্রেস সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান বেণুগোপাল। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভে ইন্ডিয়া জোটের অংশগ্রহণ ও পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।