মনিপুর শাখায় শিক্ষকদের সম্মান ও আনন্দ ভাগাভাগি, উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মেহেদী হাসান লাকি
মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিনিধি – দৈনিক প্রান্তিক।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুরে অবস্থিত রফিক রাজু ক্যাডেট স্কুলের মনিপুর শাখায় আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মেহেদী হাসান লাকি।
প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। শিক্ষকদের অবদান, অধিকার, মর্যাদা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানোই এ দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; জ্ঞান ও মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, মনন ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একটি আলোকিত, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পেছনে শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য।
পরিবার একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক সেই জ্ঞান ও মূল্যবোধকে আরও পরিপূর্ণ রূপ দেন। শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের মতো গুণাবলি বিকাশেও শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস তাই শুধু শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর একটি দিন নয়; বরং শিক্ষকদের দায়িত্ব, মর্যাদা এবং তাঁদের অবদানের কথা নতুন করে স্মরণ করার দিন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতার গুরুত্বও এ দিবসের মাধ্যমে সামনে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় রফিক রাজু ক্যাডেট স্কুলের মনিপুর শাখায় শিক্ষক দিবসের এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা আনন্দঘন পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটান। মনিপুর শাখার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মেহেদী হাসান লাকি শিক্ষকদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে দিনটির আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
মনিপুর শাখার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মেহেদী হাসান লাকি বলেন, “শিক্ষকরা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি। তাঁদের জ্ঞান, শ্রম, মেধা ও আন্তরিকতার ওপরই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁদের অবদানকে নতুন করে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শিক্ষকরা যেন আনন্দময় ও সুন্দর পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়েও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; তিনি একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
এ সময় শিক্ষকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পারস্পরিক শুভেচ্ছা, সৌহার্দ্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন তারা। পরে শিক্ষকরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং বিশ্ব শিক্ষক দিবসের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন।
শিক্ষকদের এমন সম্মান ও স্বীকৃতি তাঁদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করে। কারণ একজন শিক্ষক যখন তাঁর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান পান, তখন শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসাও আরও শক্তিশালী হয়। আর সেই ইতিবাচক পরিবেশের সুফল শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজই পায়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল বার্তাই হলো—শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান করা নয়; বরং জ্ঞান, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার মহান দায়িত্বকে সম্মান করা।
রফিক রাজু ক্যাডেট স্কুলের মনিপুর শাখার এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষকরা যেমন নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন, তেমনি দিনটির তাৎপর্যও নতুন করে স্মরণ করেছেন।
মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিনিধি - দৈনিক প্রান্তিক। 






















