ইনসাফভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় রুকনদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান
জহিরুল ইসলাম- উপসম্পাদক-দৈনিক প্রান্তিক। | ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জেলা রুকন (সদস্য) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টায় টঙ্গীর শহীদ আব্দুল মালেক অডিটোরিয়ামে পবিত্র কোরআনের দারসের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান মাদানি এবং উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ। গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও সাংগঠনিক ইউনিটের পুরুষ ও মহিলা রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জেলা আমীর নির্বাচন, সাংগঠনিক কার্যক্রমের পর্যালোচনা, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রুকনরা সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি: অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সংগঠনের রুকনদের আদর্শিক অবস্থান, নৈতিক চরিত্র, ব্যক্তিগত জীবনাচার ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি রুকনদের সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে রুকনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের মধ্য দিয়েই একটি আদর্শিক সংগঠন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ন্যায়বিচার, সততা, আমানতদারি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি রুকনদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আদর্শিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান মাদানি সংগঠনের আদর্শিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি রুকনদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে ইসলামী আদর্শের অনুশীলন, কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞানচর্চা এবং দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথি উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফও সাংগঠনিক দায়িত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
২০২৭-২০২৮ সেশনের নেতৃত্ব নির্বাচন
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য গাজীপুর জেলা আমীর নির্বাচন। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোয় রুকনদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নতুন সেশনের নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
গাজীপুরের বাস্তবতায় জনসম্পৃক্ত রাজনীতির চ্যালেঞ্জ
শিল্পসমৃদ্ধ ও দ্রুত নগরায়ণশীল জেলা গাজীপুরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য বিশেষ দায়িত্ব তৈরি করেছে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশদূষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো জেলার জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
এ বাস্তবতায় ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তর করা নতুন নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।
গাজীপুর জেলা জামায়াতের এ রুকন সম্মেলন নতুন সাংগঠনিক সেশনের নেতৃত্ব ও কর্মপরিকল্পনা বিন্যস্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সংগঠনটির অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জহিরুল ইসলাম- উপসম্পাদক-দৈনিক প্রান্তিক 


















