Dhaka ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের খুলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে জিরো কস্ট ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপের কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেল-এর মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের কর্মীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন এই উদ্যোগে তা অনেকটাই কাটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সামনে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন—শ্রমবাজার খুলবে, কিন্তু কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়োগপ্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকবে?

কারণ অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মধ্যস্বত্বভোগী ও রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।


সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে জিরো কস্টে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে

‘জিরো কস্ট’ বলতে কর্মীর নিজস্ব অভিবাসন ব্যয় না থাকার বিষয়টি বোঝানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়োগকর্তা বা নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বহন করার কথা রয়েছে।

প্রথম দফায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সরকারি ব্যবস্থায় সরাসরি নিয়োগ হলে দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানোর সুযোগ থাকে।

তবে কর্মীদের বাছাই, নিয়োগ, ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা, বিমানভাড়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার চূড়ান্ত নিয়ম এখনো সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।


মালয়েশিয়ার নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ বেসরকারি খাতের ৩৩৭টি এজেন্সি এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও আলাদাভাবে প্রক্রিয়াটিতে থাকছে।

এজেন্সিগুলোর সংখ্যা বাড়ানোর ফলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়লে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রবণতাও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শুধু এজেন্সির সংখ্যা বাড়ালেই সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত হয় না। কোন এজেন্সি কীভাবে কর্মী নেবে, কত টাকা নিতে পারবে এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে তাদের চুক্তির শর্ত কীএসব বিষয় প্রকাশ্য যাচাইযোগ্য হওয়াই মূল বিষয়।


বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য মালয়েশিয়া। নির্মাণ, উৎপাদন, পরিষেবা, কৃষি ও বিভিন্ন খাতে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন।

কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে একাধিকবার সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত এজেন্সি, নিয়োগব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে।

একপর্যায়ে মালয়েশিয়া নতুন করে কর্মী গ্রহণের সময়সীমা বেঁধে দেয়। সময়সীমার মধ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মী যেতে না পারায় বাংলাদেশি কর্মীদের একটি অংশ ভিসা পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি।

এতে একদিকে চাকরিপ্রত্যাশীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, অন্যদিকে দুই দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


বাংলাদেশ সরকারের এবারের আলোচনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে জিরো কস্ট

বিদেশে যেতে একজন কর্মীর সবচেয়ে বড় বাধা অভিবাসন ব্যয়। বিমানভাড়া, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া, সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে গিয়ে অনেক কর্মী ঋণগ্রস্ত হয়ে বিদেশে যান।

কিন্তু কর্মী যদি নিয়োগকর্তার খরচে বিদেশ যেতে পারেন, তাহলে বিদেশে যাওয়ার আগেই বড় ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

এ কারণে প্রথম ১০ হাজার কর্মীকে জিরো কস্টে পাঠানোর উদ্যোগ সফল হলে এটি বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জিরো কস্ট শব্দটির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সেটি সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করতে হবে।

কর্মীকে কোনো পর্যায়েই ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘ভিসা প্রসেসিং’, ‘চাকরি নিশ্চিতকরণ’, ‘কোটা’, ‘ম্যানপাওয়ার চার্জ’ কিংবা অন্য কোনো নামে অর্থ দিতে হবে কি না—এ বিষয়ে স্বচ্ছ নির্দেশনা প্রয়োজন।


অতীতের সিন্ডিকেট বিতর্ক

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা সীমিত রাখাকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ ছিল, সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না। বরং বলা যায়, শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে যুক্ত করার ফলে আগের কাঠামো থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই এজেন্সিগুলো বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে?


বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে; কিন্তু এর পাশাপাশি কঠোর নজরদারি দরকার।

কারণ একজন কর্মী সরাসরি অনুমোদিত এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও স্থানীয় পর্যায়ে দালাল বা সাব-এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে।

ফলে শুধু ঢাকায় বসে এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ নয়—জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নজরদারি প্রয়োজন।

প্রতিটি চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার নাম, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন সুবিধা, নিয়োগব্যয় এবং বিমানের টিকিটের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা গেলে প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে আসতে পারে।


শ্রমবাজার খোলার খবর প্রকাশের পরপরই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে প্রতারণার।

সরকার চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক করে বলেছে, আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কারও কাছে টাকা দেওয়া যাবে না।

এমনকি সরকারি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে মেডিকেল পরীক্ষা, পাসপোর্ট জমা বা কথিত ‘ভিসা প্রসেসিং’-এর নামে অর্থ দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।

কারণ অতীতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে ভুয়া ভিসা, ভুয়া নিয়োগপত্র ও দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।


বোয়েসেল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৈদেশিক কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর অন্যতম সুবিধা হলো—প্রক্রিয়াটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় তদারকির আওতায় রাখা যায়।

প্রথম ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বোয়েসেলকে সামনে রাখার অর্থ হলো, পরীক্ষামূলকভাবে একটি মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতার বাইরে থাকা মডেল তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি কর্মীদের কম খরচে বা নিয়োগকর্তার ব্যয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি অনুসরণযোগ্য হতে পারে।


মালয়েশিয়ায় গিয়ে কর্মীদের কী নিশ্চয়তা?

বিদেশে যাওয়ার আগের খরচ কমানোই সব নয়। কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর তার চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরির অফারে যে বেতন উল্লেখ থাকবে, বাস্তবে সেই বেতন দেওয়া হচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে—

চাকরির মেয়াদ, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, আবাসন, চিকিৎসা, ছুটি, পাসপোর্ট সংরক্ষণ এবং চাকরি পরিবর্তনের নিয়মসবকিছু নিয়োগ চুক্তিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।

বাংলাদেশি কর্মীরা যেন নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে জিম্মি হয়ে না পড়েন, সে জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাও প্রয়োজন।


৩১ ডিসেম্বরের আগে বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বর্তমান সমঝোতার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফলে চলতি বছরের শেষ চার মাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময়ের মধ্যে শুধু ১০ হাজার কর্মী পাঠানো নয়; বরং একটি টেকসই ও স্বচ্ছ শ্রমবাজার কাঠামো তৈরি করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

যদি প্রথম দফায় কর্মীরা কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই নিরাপদে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন এবং সেখানে চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও বেতন পান, তাহলে দুই দেশের শ্রমবাজার সম্পর্ক নতুন ভিত্তি পেতে পারে।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, নিয়োগে স্বচ্ছতা।
কে চাকরি দিচ্ছে, কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাচ্ছে এবং কর্মীর প্রকৃত খরচ কত—এসব তথ্য প্রকাশ্য করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দালালমুক্ত প্রক্রিয়া।
সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির নাম ব্যবহার করে স্থানীয় দালালরা যেন টাকা তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, বিদেশে গিয়ে শ্রমিকের অধিকার।
শুধু কম খরচে বিদেশ পাঠানো নয়; কর্মীর বেতন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই হতে হবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। বিশেষ করে ‘জিরো কস্ট’ ব্যবস্থা সফল হলে বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মডেল তৈরি করতে পারে।

কিন্তু শ্রমবাজার খোলার খবর যতটা আশার, ততটাই সতর্কতারও।

কারণ কর্মসংস্থানের আশায় হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ামুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠলে নতুন করে প্রতারণার শিকার হতে পারেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা, চাকরির শর্ত খরচের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের আগে কোনো অর্থ লেনদেন না করাই নিরাপদ।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে জিরো কস্টে পাঠানোর পরিকল্পনা এবং ৩৩৭টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার উদ্যোগ পুরোনো ব্যবস্থার তুলনায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিন্তু শ্রমবাজার খোলার প্রকৃত সাফল্য সংখ্যায় নয়—কতজন কর্মী নিরাপদে, কম খরচে, প্রতারণামুক্তভাবে এবং ন্যায্য বেতনসুবিধায় মালয়েশিয়ায় যেতে পারলেন, সেটিই হবে মূল মাপকাঠি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯০ দশকের নস্টালজিয়া বনাম জলবায়ু সংকট: এআই ছবির আড়ালে পুড়ছে পৃথিবী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের খুলছে

Update Time : ০৫:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে জিরো কস্ট ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপের কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেল-এর মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের কর্মীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন এই উদ্যোগে তা অনেকটাই কাটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সামনে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন—শ্রমবাজার খুলবে, কিন্তু কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়োগপ্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকবে?

কারণ অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মধ্যস্বত্বভোগী ও রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।


সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে জিরো কস্টে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে

‘জিরো কস্ট’ বলতে কর্মীর নিজস্ব অভিবাসন ব্যয় না থাকার বিষয়টি বোঝানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়োগকর্তা বা নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বহন করার কথা রয়েছে।

প্রথম দফায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সরকারি ব্যবস্থায় সরাসরি নিয়োগ হলে দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানোর সুযোগ থাকে।

তবে কর্মীদের বাছাই, নিয়োগ, ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা, বিমানভাড়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার চূড়ান্ত নিয়ম এখনো সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।


মালয়েশিয়ার নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ বেসরকারি খাতের ৩৩৭টি এজেন্সি এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও আলাদাভাবে প্রক্রিয়াটিতে থাকছে।

এজেন্সিগুলোর সংখ্যা বাড়ানোর ফলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়লে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রবণতাও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শুধু এজেন্সির সংখ্যা বাড়ালেই সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত হয় না। কোন এজেন্সি কীভাবে কর্মী নেবে, কত টাকা নিতে পারবে এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে তাদের চুক্তির শর্ত কীএসব বিষয় প্রকাশ্য যাচাইযোগ্য হওয়াই মূল বিষয়।


বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য মালয়েশিয়া। নির্মাণ, উৎপাদন, পরিষেবা, কৃষি ও বিভিন্ন খাতে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন।

কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে একাধিকবার সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত এজেন্সি, নিয়োগব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে।

একপর্যায়ে মালয়েশিয়া নতুন করে কর্মী গ্রহণের সময়সীমা বেঁধে দেয়। সময়সীমার মধ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মী যেতে না পারায় বাংলাদেশি কর্মীদের একটি অংশ ভিসা পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি।

এতে একদিকে চাকরিপ্রত্যাশীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, অন্যদিকে দুই দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


বাংলাদেশ সরকারের এবারের আলোচনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে জিরো কস্ট

বিদেশে যেতে একজন কর্মীর সবচেয়ে বড় বাধা অভিবাসন ব্যয়। বিমানভাড়া, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া, সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে গিয়ে অনেক কর্মী ঋণগ্রস্ত হয়ে বিদেশে যান।

কিন্তু কর্মী যদি নিয়োগকর্তার খরচে বিদেশ যেতে পারেন, তাহলে বিদেশে যাওয়ার আগেই বড় ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

এ কারণে প্রথম ১০ হাজার কর্মীকে জিরো কস্টে পাঠানোর উদ্যোগ সফল হলে এটি বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জিরো কস্ট শব্দটির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সেটি সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করতে হবে।

কর্মীকে কোনো পর্যায়েই ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘ভিসা প্রসেসিং’, ‘চাকরি নিশ্চিতকরণ’, ‘কোটা’, ‘ম্যানপাওয়ার চার্জ’ কিংবা অন্য কোনো নামে অর্থ দিতে হবে কি না—এ বিষয়ে স্বচ্ছ নির্দেশনা প্রয়োজন।


অতীতের সিন্ডিকেট বিতর্ক

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা সীমিত রাখাকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ ছিল, সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না। বরং বলা যায়, শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে যুক্ত করার ফলে আগের কাঠামো থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই এজেন্সিগুলো বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে?


বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে; কিন্তু এর পাশাপাশি কঠোর নজরদারি দরকার।

কারণ একজন কর্মী সরাসরি অনুমোদিত এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও স্থানীয় পর্যায়ে দালাল বা সাব-এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে।

ফলে শুধু ঢাকায় বসে এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ নয়—জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নজরদারি প্রয়োজন।

প্রতিটি চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার নাম, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন সুবিধা, নিয়োগব্যয় এবং বিমানের টিকিটের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা গেলে প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে আসতে পারে।


শ্রমবাজার খোলার খবর প্রকাশের পরপরই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে প্রতারণার।

সরকার চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক করে বলেছে, আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কারও কাছে টাকা দেওয়া যাবে না।

এমনকি সরকারি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে মেডিকেল পরীক্ষা, পাসপোর্ট জমা বা কথিত ‘ভিসা প্রসেসিং’-এর নামে অর্থ দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।

কারণ অতীতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে ভুয়া ভিসা, ভুয়া নিয়োগপত্র ও দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।


বোয়েসেল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৈদেশিক কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর অন্যতম সুবিধা হলো—প্রক্রিয়াটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় তদারকির আওতায় রাখা যায়।

প্রথম ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে বোয়েসেলকে সামনে রাখার অর্থ হলো, পরীক্ষামূলকভাবে একটি মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতার বাইরে থাকা মডেল তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

এই মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি কর্মীদের কম খরচে বা নিয়োগকর্তার ব্যয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি অনুসরণযোগ্য হতে পারে।


মালয়েশিয়ায় গিয়ে কর্মীদের কী নিশ্চয়তা?

বিদেশে যাওয়ার আগের খরচ কমানোই সব নয়। কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর তার চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরির অফারে যে বেতন উল্লেখ থাকবে, বাস্তবে সেই বেতন দেওয়া হচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে—

চাকরির মেয়াদ, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, আবাসন, চিকিৎসা, ছুটি, পাসপোর্ট সংরক্ষণ এবং চাকরি পরিবর্তনের নিয়মসবকিছু নিয়োগ চুক্তিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।

বাংলাদেশি কর্মীরা যেন নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে জিম্মি হয়ে না পড়েন, সে জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাও প্রয়োজন।


৩১ ডিসেম্বরের আগে বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বর্তমান সমঝোতার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফলে চলতি বছরের শেষ চার মাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময়ের মধ্যে শুধু ১০ হাজার কর্মী পাঠানো নয়; বরং একটি টেকসই ও স্বচ্ছ শ্রমবাজার কাঠামো তৈরি করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

যদি প্রথম দফায় কর্মীরা কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই নিরাপদে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন এবং সেখানে চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও বেতন পান, তাহলে দুই দেশের শ্রমবাজার সম্পর্ক নতুন ভিত্তি পেতে পারে।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, নিয়োগে স্বচ্ছতা।
কে চাকরি দিচ্ছে, কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাচ্ছে এবং কর্মীর প্রকৃত খরচ কত—এসব তথ্য প্রকাশ্য করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দালালমুক্ত প্রক্রিয়া।
সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির নাম ব্যবহার করে স্থানীয় দালালরা যেন টাকা তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, বিদেশে গিয়ে শ্রমিকের অধিকার।
শুধু কম খরচে বিদেশ পাঠানো নয়; কর্মীর বেতন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই হতে হবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। বিশেষ করে ‘জিরো কস্ট’ ব্যবস্থা সফল হলে বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মডেল তৈরি করতে পারে।

কিন্তু শ্রমবাজার খোলার খবর যতটা আশার, ততটাই সতর্কতারও।

কারণ কর্মসংস্থানের আশায় হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ামুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠলে নতুন করে প্রতারণার শিকার হতে পারেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা, চাকরির শর্ত খরচের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের আগে কোনো অর্থ লেনদেন না করাই নিরাপদ।


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে জিরো কস্টে পাঠানোর পরিকল্পনা এবং ৩৩৭টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার উদ্যোগ পুরোনো ব্যবস্থার তুলনায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিন্তু শ্রমবাজার খোলার প্রকৃত সাফল্য সংখ্যায় নয়—কতজন কর্মী নিরাপদে, কম খরচে, প্রতারণামুক্তভাবে এবং ন্যায্য বেতনসুবিধায় মালয়েশিয়ায় যেতে পারলেন, সেটিই হবে মূল মাপকাঠি।