Dhaka ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কুষ্টিয়ার রাজপথে যে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, তার বিচারিক পরিণতিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলার অভিযোগে হানিফের পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার নামও রয়েছে। চার আসামির বিরুদ্ধেই আন্দোলন দমনে উসকানি, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কুষ্টিয়াতেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় ছয়জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।

পরবর্তী সময়ে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

মামলার নথিপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যসংবলিত একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে হানিফসহ অন্যরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশনা ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তৃতীয় অভিযোগটি ছিল ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া একটি বক্তব্যের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমনে তাঁদের নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশনা রয়েছে। প্রসিকিউশন এই বক্তব্যকে আন্দোলন দমনে দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে উপস্থাপন করে।

এ ছাড়া হানিফের সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আদালতে দাখিল করার কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, এসব কথোপকথন থেকে আন্দোলন দমনে হানিফের নির্দেশনা, যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরদিন ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমির হোসেন। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ১০ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। এর দুই দিন পর ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

অবশেষে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয় হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

Update Time : ০৬:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কুষ্টিয়ার রাজপথে যে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, তার বিচারিক পরিণতিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলার অভিযোগে হানিফের পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার নামও রয়েছে। চার আসামির বিরুদ্ধেই আন্দোলন দমনে উসকানি, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কুষ্টিয়াতেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় ছয়জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।

পরবর্তী সময়ে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

মামলার নথিপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যসংবলিত একটি বৈঠকে উপস্থিত থেকে হানিফসহ অন্যরা ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশনা ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তৃতীয় অভিযোগটি ছিল ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া একটি বক্তব্যের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমনে তাঁদের নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশনা রয়েছে। প্রসিকিউশন এই বক্তব্যকে আন্দোলন দমনে দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে উপস্থাপন করে।

এ ছাড়া হানিফের সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আদালতে দাখিল করার কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, এসব কথোপকথন থেকে আন্দোলন দমনে হানিফের নির্দেশনা, যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরদিন ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমির হোসেন। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ১০ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। এর দুই দিন পর ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

অবশেষে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয় হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছে।