সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অবরোধে বিপর্যস্ত জনজীবন; পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা
দৈনিক প্রান্তিক | ২২ অক্টোবর ২০২৬
পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের সঙ্গে পাহাড়ের মিতালি আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য—সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ছুটে যান রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই পাহাড়ি জনপদে। কিন্তু প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আড়ালে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বারবার অস্থির করে তুলছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং উজোবাজার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গোলাগুলির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সাজেক ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।
ঘটনাটি শুধু পর্যটন সড়ক অবরোধ কিংবা দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জীবিকা এবং পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—পাহাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে জিম্মি করে কারা নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়?
তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ শুরু করে।
এর আগে ২১ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষর করেন।
তাঁদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। মাচালং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে তাঁদের সশস্ত্র তৎপরতা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র সদস্যরা সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছেন। গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষিরা হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগানের পরিচর্যা করতেও যেতে পারছেন না।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শতাধিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এসব পরিস্থিতির অবসান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।
তবে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ও অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
জেএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য
অবরোধকারী সংগঠনগুলোর প্রধান অভিযোগ জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের বিরুদ্ধে। তবে সংগঠনটি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সাজেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ-পীড়নের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই জেএসএসের বিরুদ্ধে এসব প্রচার চালানো হচ্ছে।
অর্থাৎ, সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। এক পক্ষের দাবি, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতায় স্থানীয় মানুষ ঘরছাড়া ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অন্য পক্ষের দাবি, ইউপিডিএফের তৎপরতা আড়াল করতেই তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতির একটি জটিল বাস্তবতা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিরোধ ও সাংগঠনিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কতটা বিপন্ন হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যোগ
সাজেকের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর অবরোধ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ছিল। পরে ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়।
এদিকে সাজেকে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ২২ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা বহরের ব্যবস্থা করে। পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাভাবিক যাতায়াত বজায় রাখা এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
উজোবাজারে গোলাগুলি: পুলিশের দাবি ও ইউপিডিএফের অস্বীকার
বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বহরটি যাত্রা শুরু করে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেন।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটকবাহী গাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলে।
অন্যদিকে, ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা গোলাগুলির ঘটনায় সংগঠনটির সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অবরোধ ছিল শান্তিপূর্ণ। জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই গোলাগুলির খবর প্রচার করা হচ্ছে।
ফলে গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও ইউপিডিএফের দাবি সম্পূর্ণ বিপরীত। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, পাহাড়ে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা কিংবা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার কারণে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার সুযোগ নেই।
পর্যটকেরা নিরাপদে ফিরেছেন
সাজেকে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
উজোবাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়লেও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়ির দিকে অগ্রসর হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় পর্যটকেরা সাজেক ত্যাগ করেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
সশস্ত্র তৎপরতায় বিপর্যস্ত পাহাড়ের জনজীবন
সাজেকের অর্থনীতি অনেকাংশে পর্যটন, কৃষি, জুমচাষ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হলে এসব পেশার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় চাষিরা।
পুলিশের আগের এক বক্তব্যের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অবরোধের কারণে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জুমচাষি তাঁদের বাগানের পরিচর্যা করতে পারছেন না। শতাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সাজেকের এ পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে—সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই অস্থিতিশীল করে না, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তিও দুর্বল করে দেয়।
পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্ন
সাজেকের জনপদে পাহাড়ি ও বাঙালি—বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সম্পর্ক এবং সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে।
কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ এ সম্প্রীতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি কিংবা সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ বানানো গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নির্দিষ্ট করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি সব নাগরিকের সমান নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাহাড়ের শান্তি রক্ষায় স্থানীয় কার্বারি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটনশিল্পকে জিম্মি করার পরিণতি
সাজেক শুধু রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়ির পর্যটনসম্পদ নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পরিবহনশ্রমিক, হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁকর্মী, স্থানীয় গাইড, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকা।
অবরোধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হন এসব মানুষ। একই সঙ্গে দেশের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।
সুতরাং কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক স্বার্থে পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা কিংবা পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন দৃঢ় অবস্থান
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও সশস্ত্র তৎপরতার বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র সংঘাতের অভিযোগ এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
কিন্তু পাহাড়ের সাধারণ মানুষ কোনো সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য কিংবা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বলি হতে পারেন না।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সাধারণ মানুষের নিরাপদে বসবাস ও চলাচলের নিশ্চয়তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ।
পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সামাজিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাজেকের পাহাড়ে এখন সবচেয়ে জরুরি কোনো গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়; জরুরি মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।
পাহাড়ের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে পাহাড়ের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হবে। পর্যটকের নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং দেশের পর্যটনশিল্পের স্বার্থে সশস্ত্র অপরাজনীতির অবসান এখন সময়ের দাবি।
দৈনিক প্রান্তিক | ২২ অক্টোবর ২০২৬ 



















