Dhaka ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএসে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় গেলে সেখানে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংগ্রহে সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। একই সময়ে লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি পাওয়া নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে বিষয়টি দেখতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং রূঢ় ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি নির্বাহী পরিচালককে মারধর এবং ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন।

ঘটনার আরেক পর্যায়ে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে তাদের নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীবের করা মামলাটি ১ অক্টোবর রাতে বিমানবন্দর থানায় নথিভুক্ত হয়। পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে ওই মামলায় আখতারুজ্জামানকে ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

Update Time : ০২:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএসে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় গেলে সেখানে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংগ্রহে সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। একই সময়ে লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি পাওয়া নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে বিষয়টি দেখতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং রূঢ় ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি নির্বাহী পরিচালককে মারধর এবং ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন।

ঘটনার আরেক পর্যায়ে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে তাদের নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীবের করা মামলাটি ১ অক্টোবর রাতে বিমানবন্দর থানায় নথিভুক্ত হয়। পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে ওই মামলায় আখতারুজ্জামানকে ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।