Dhaka ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাংলালিংকের এক বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে নগদ টাকা, সিমকার্ড ও অফিসের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের কাঠালতলা ফুটবল মাঠসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তির নাম শেখ আল আমিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বয়স ৩০ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশনের খুচরা বিক্রয় কর্মকর্তা (আরএসও) হিসেবে কর্মরত।

সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বুধবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় কার্যক্রম শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে শহরের দিকে ফিরছিলেন আল আমিন। পথে কাঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন। তাঁদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল। এরপর তাঁকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, সিমকার্ড ও পণ্যসহ অফিসের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

আহত আল আমিনের দাবি, ব্যাগে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ ছিল। হামলাকারীদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।

বাংলালিংকের আরেক বিক্রয়কর্মী শরিফুল ইসলাম জানান, আল আমিন সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় বিক্রয় কার্যক্রম শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য শহরে ফিরছিলেন। কাঠালতলা এলাকায় একটি সবুজ রঙের এফজেড মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে হামলা চালান। এ সময় তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা টাকা ও সিমকার্ড নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ তানভীর জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আল আমিন তাঁকে ফোন করেছিলেন। পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আল আমিনের আরেক সহকর্মী মো. মাছুম বিল্লাহ আহমেদ বলেন, ঘটনার আগে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। দ্রুত ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে তিনি কর্মস্থল থেকে বের হয়েছিলেন। পরে ফোনে তাঁর ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পান।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, বিকেলে আহত আল আমিনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ সোহেলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের পক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের হেরেমের মোড়ে অস্ত্রের মুখে এক বিকাশকর্মীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত দুই মাসে চিতলমারীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

বাগেরহাটে বাংলালিংক কর্মীকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই

Update Time : ০৩:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাংলালিংকের এক বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে নগদ টাকা, সিমকার্ড ও অফিসের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের কাঠালতলা ফুটবল মাঠসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তির নাম শেখ আল আমিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বয়স ৩০ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশনের খুচরা বিক্রয় কর্মকর্তা (আরএসও) হিসেবে কর্মরত।

সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বুধবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় কার্যক্রম শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে শহরের দিকে ফিরছিলেন আল আমিন। পথে কাঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন। তাঁদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল। এরপর তাঁকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, সিমকার্ড ও পণ্যসহ অফিসের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

আহত আল আমিনের দাবি, ব্যাগে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ ছিল। হামলাকারীদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।

বাংলালিংকের আরেক বিক্রয়কর্মী শরিফুল ইসলাম জানান, আল আমিন সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় বিক্রয় কার্যক্রম শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য শহরে ফিরছিলেন। কাঠালতলা এলাকায় একটি সবুজ রঙের এফজেড মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে হামলা চালান। এ সময় তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা টাকা ও সিমকার্ড নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ তানভীর জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আল আমিন তাঁকে ফোন করেছিলেন। পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আল আমিনের আরেক সহকর্মী মো. মাছুম বিল্লাহ আহমেদ বলেন, ঘটনার আগে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। দ্রুত ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে তিনি কর্মস্থল থেকে বের হয়েছিলেন। পরে ফোনে তাঁর ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পান।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, বিকেলে আহত আল আমিনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ সোহেলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের পক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের হেরেমের মোড়ে অস্ত্রের মুখে এক বিকাশকর্মীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত দুই মাসে চিতলমারীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।