বক্তব্য প্রত্যাহার ও অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি; শব্দচয়ন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক প্রান্তিক | ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে জাতির সামনে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, ইসলামী আকিদা ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পরিচয় মহান আল্লাহর নির্ধারিত। মানুষের জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করে লিঙ্গপরিচয় পরিবর্তনের মতাদর্শকে বৈধতা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এর প্রচার-প্রসার চালানো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের ঈমান, আকিদা, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তাঁরা বলেন, ইসলাম প্রত্যেক মানুষের মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। কারও প্রতি অবমাননা, বিদ্বেষ কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের স্থান ইসলামে নেই। তবে মানবিক মর্যাদা রক্ষার নামে ধর্মীয় শরিয়ত ও আসমানি বিধানের বিরোধী কোনো মতবাদ সমাজে চাপিয়ে দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র, মনন ও নৈতিকতা গঠনের মূল ভিত্তি শিক্ষাব্যবস্থা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিতর্কিত ধারণা শিক্ষাব্যবস্থায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং নৈতিকতা, মানবিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও সুস্থ সামাজিক চেতনার বিকাশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হেফাজতের নেতৃদ্বয় আরও বলেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়। জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে তাঁকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে জাতির সামনে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের নাস্তিক্যবাদী বা সমাজবিধ্বংসী এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে ইসলামি আকিদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নৈতিক শিক্ষা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্রপাত গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায়। সেখানে তিনি ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে আরও প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক স্পষ্টীকরণ বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তাঁর অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার প্রসঙ্গেই তিনি কথা বলেছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সেখানে তাঁর অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’। দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করাই ছিল তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক প্রান্তিক | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ 






















