Dhaka ১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা রেঞ্জে একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক- দৈনিক প্রান্তিক। | ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইউনিটে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে। থানার পাশাপাশি ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যরাও এ তালিকায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের অনেকেই বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেতন-ভাতার বাইরে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যাহার হওয়া ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষামন্ত্রীর ট্রান্সজেন্ডারবিষয়ক বক্তব্যের নিন্দা হেফাজতের

খুলনা রেঞ্জে একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

Update Time : ০৪:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক- দৈনিক প্রান্তিক। | ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইউনিটে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে। থানার পাশাপাশি ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যরাও এ তালিকায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের অনেকেই বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেতন-ভাতার বাইরে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যাহার হওয়া ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।