Dhaka ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে ভিডিও কনফারেন্সে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম ধাপে বদরপুরের তিন ওয়ার্ডের ২,২১৮ কৃষক পেলেন কার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক – ভোলা ।

‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহনে ‘কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। লালমোহনে কর্মসূচির প্রথম ধাপে বদরপুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ২ হাজার ২১৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার কথা রয়েছে।

কৃষক কার্ডকে কৃষকদের সরকারি সেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, সরকারি প্রণোদনা, সেচ, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন কৃষিসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি কৃষক কার্ড প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদেরও পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশজুড়ে পাইলট কার্যক্রম

১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের পাইলটিং কার্যক্রমে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি পর্যায়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লকের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকের সেবা এক কার্ডে

সরকারি কৃষক কার্ড ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো কৃষকের পরিচয়, সরকারি সহায়তা এবং কৃষিসেবাকে একটি ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনা। কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সেচ, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, বীমা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষক কার্ডের প্রি-পাইলট পর্যায়ের সরকারি কাঠামো অনুযায়ী, কৃষকের তথ্য ডিজিটালভাবে সংগ্রহ ও যাচাই, কার্ড বিতরণ ও সক্রিয়করণ এবং নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে কার্ড ব্যবহার করে কৃষি উপকরণ কেনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাও এ কাঠামোর অংশ।

লালমোহনের অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, বিভাগীয় ও জেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও উপকারভোগী কৃষকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি কৃষিসেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কৃষি উপকরণ সহায়তায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লালমোহনে বদরপুর ইউনিয়নের তিন ওয়ার্ডের কৃষকদের দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য এলাকার কৃষকদের মধ্যেও সম্প্রসারিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ; অকৃতকার্য প্রায় ৬ লাখ

লালমোহনে ভিডিও কনফারেন্সে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৫:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম ধাপে বদরপুরের তিন ওয়ার্ডের ২,২১৮ কৃষক পেলেন কার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক – ভোলা ।

‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহনে ‘কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। লালমোহনে কর্মসূচির প্রথম ধাপে বদরপুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ২ হাজার ২১৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার কথা রয়েছে।

কৃষক কার্ডকে কৃষকদের সরকারি সেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, সরকারি প্রণোদনা, সেচ, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন কৃষিসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি কৃষক কার্ড প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদেরও পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশজুড়ে পাইলট কার্যক্রম

১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের পাইলটিং কার্যক্রমে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি পর্যায়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লকের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকের সেবা এক কার্ডে

সরকারি কৃষক কার্ড ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো কৃষকের পরিচয়, সরকারি সহায়তা এবং কৃষিসেবাকে একটি ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনা। কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সেচ, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, বীমা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষক কার্ডের প্রি-পাইলট পর্যায়ের সরকারি কাঠামো অনুযায়ী, কৃষকের তথ্য ডিজিটালভাবে সংগ্রহ ও যাচাই, কার্ড বিতরণ ও সক্রিয়করণ এবং নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে কার্ড ব্যবহার করে কৃষি উপকরণ কেনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাও এ কাঠামোর অংশ।

লালমোহনের অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, বিভাগীয় ও জেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও উপকারভোগী কৃষকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি কৃষিসেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কৃষি উপকরণ সহায়তায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লালমোহনে বদরপুর ইউনিয়নের তিন ওয়ার্ডের কৃষকদের দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য এলাকার কৃষকদের মধ্যেও সম্প্রসারিত হবে।