Dhaka ০৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধী দলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার

প্রান্তিক প্রতিবেদন, ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। এ জন্য সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আলোচনায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। বিরোধী দলকে কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি দিতে এবং আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দেন, অন্তর্ভুক্ত হন এবং আলোচনায় আসেন।’ সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধনী প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দিলে তাদের বক্তব্য, মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হবে—এমন অবস্থান সরকার আগেও জানিয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সাবেক বিচারক, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। এসব মতামত পর্যালোচনার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে।

কমিটির সভাপতি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনার কথা এরই মধ্যে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘দুইকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ বাংলাদেশে প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রস্তাব এসেছে। যেহেতু এটা একক রাষ্ট্র। তবে আমরা জুলাই জাতীয় সনদে একমত হয়েছি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন করব। এই হিসাবেই আমরা যেতে চাই।’

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রস্তাব আগেও সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনায় এসেছে। বিশেষ কমিটির আলোচনায় উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য নির্বাচন এবং ক্ষমতার পরিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব প্রস্তাব উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি অনুচ্ছেদে মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গণভোট আয়োজনের কথাও তিনি জানান।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ, প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে বিশেষ কমিটি। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এগোবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ; অকৃতকার্য প্রায় ৬ লাখ

বিরোধী দলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার

Update Time : ০২:৪১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রান্তিক প্রতিবেদন, ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। এ জন্য সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আলোচনায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। বিরোধী দলকে কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি দিতে এবং আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দেন, অন্তর্ভুক্ত হন এবং আলোচনায় আসেন।’ সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধনী প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দিলে তাদের বক্তব্য, মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হবে—এমন অবস্থান সরকার আগেও জানিয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সাবেক বিচারক, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। এসব মতামত পর্যালোচনার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে।

কমিটির সভাপতি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনার কথা এরই মধ্যে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘দুইকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ বাংলাদেশে প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রস্তাব এসেছে। যেহেতু এটা একক রাষ্ট্র। তবে আমরা জুলাই জাতীয় সনদে একমত হয়েছি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন করব। এই হিসাবেই আমরা যেতে চাই।’

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রস্তাব আগেও সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনায় এসেছে। বিশেষ কমিটির আলোচনায় উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য নির্বাচন এবং ক্ষমতার পরিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব প্রস্তাব উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি অনুচ্ছেদে মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গণভোট আয়োজনের কথাও তিনি জানান।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ, প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে বিশেষ কমিটি। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এগোবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ।