Dhaka ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দৈনিক প্রান্তিক ডেস্ক | ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’ তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

দুর্গোৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সৃষ্টির লালনের প্রতীক। অশুভের বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব মানবসমাজে এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে।

বাংলাদেশের বহুধর্মীয় ও বহুমাত্রিক সামাজিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজন বাংলাদেশের আবহমান সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ ও নিশ্চিন্তে নিরাপদ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

তিনি পুনরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোরআনের বিধান বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আমির হামজা, টানলেন সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০২:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক প্রান্তিক ডেস্ক | ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’ তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজার উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

দুর্গোৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সৃষ্টির লালনের প্রতীক। অশুভের বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব মানবসমাজে এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে।

বাংলাদেশের বহুধর্মীয় ও বহুমাত্রিক সামাজিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজন বাংলাদেশের আবহমান সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ ও নিশ্চিন্তে নিরাপদ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

তিনি পুনরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।