খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত
নিজস্ব প্রতিবেদক -দৈনিক প্রান্তিক।
খুলনা, ১০ অক্টোবর ২০২৬: খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে একা চলাচল না করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে একা চলাচল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের বলা হয়েছে। নির্দেশনার অনুলিপি জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও থানাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা নগরের খানজাহান আলী সড়কে কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)।
রূপসা উপজেলায় বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে তিনি রিকশায় করে নগরে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজিতে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলার পর জেলা পুলিশের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন শেষে কোনো সদস্য যাতে ছিনতাইকারীদের কবলে না পড়েন, সে জন্যই এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
পুলিশের এ নির্দেশনা এমন এক সময়ে এল, যখন জেলার কয়েকটি থানায় অপরাধী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় অপরাধ দমন অভিযান জোরদার রাখাও এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক -দৈনিক প্রান্তিক। 





















