ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে আবারও পালিয়েছেন শরিফুল ইসলাম নামে এক হাজতি আসামি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত থেকে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। একই আসামি এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও আদালত থেকে পালিয়েছিলেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পলাতক শরিফুল ইসলাম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহমেদের ছেলে। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া ১৪ বছর বয়সী জিসান হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশ সদস্যকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান তিনি। পরে ফেনী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই ঘটনার পর শরিফুলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি মডেল থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই মামলার হাজতি আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের ডিউটি বণ্টন অনুযায়ী, ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম শরিফুলকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব পান। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি শরিফুলকে ৭ নম্বর সিএমএম আদালতে নিয়ে যান।
আদালতে শরিফুলের এক হাতের হাতকড়া কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে এবং অপর অংশ তার হাতে আটকানো ছিল। এরপর কনস্টেবল আব্দুল আলিম আদালতের সামনের বারান্দায় অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি এজলাসে প্রবেশ করে দেখতে পান, শরিফুল সেখানে নেই। কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে তখন শুধু খোলা হাতকড়াটি ঝুলছিল।
এদিন মামলার সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এরপর শরিফুলকে হাজতখানায় নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর আদালত ও আশপাশের এলাকায় তাকে ধরতে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দাসহ পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, আদালত চত্বর থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দাসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই আসামির দ্বিতীয়বার আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ও হাজতি আসামিদের পাহারার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে পালানোর সময় শরিফুল একজন পুলিশ সদস্যকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়েছিলেন।
প্রান্তিক প্রতিবেদন। 




















