মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক।
টিকটকে বিভিন্ন দেশের ভিডিও দেখে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে পাবনার তিন কিশোরীর। সেই ইচ্ছা থেকেই শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাসে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায় তিন বন্ধু। তবে কুড়িগ্রামে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলায় বিপাকে পড়ে তারা। পরে সন্দেহজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা তিনজনই পরস্পরের বন্ধু। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল এবং নিয়মিত টিকটক ভিডিও দেখত তারা।
রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিন কিশোরী আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিন বন্ধু বাসে করে প্রথমে নাটোর ও পরে রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে যায়। সেখানে তাদের পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার। কিন্তু অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে তারা। সন্ধ্যার পর থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে তাদের গতিবিধি স্থানীয় এক নারীর কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করে কৌশলে তিন কিশোরীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তিনি তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করে এবং পাবনা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় পাবনা সদর থানার পুলিশ তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে। সোমবার দুপুরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক। 





















