Dhaka ০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল: ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা, দেশজুড়ে তোলপাড় ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চলমান ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের ভুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আজ, ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুক বা না করুক—সব পরীক্ষার্থীকে এই দুটি প্রশ্নের বিপরীতে সম্পূর্ণ বা পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

এর আগে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্নে বড় ধরনের ভুল ও অসংগতি ধরা পড়ায় পরীক্ষার হলেই চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী ভুলের কারণে প্রশ্নের উত্তর মেলাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এদিকে, একদিকে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে প্রশ্নপত্রের এমন নজিরবিহীন ভুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়ে। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও মোড়ে জড়ো হয়ে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের এই আন্দোলনে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও শামিল হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করেন, যা দেশব্যাপী ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।

আজ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তোলপাড়ের বিষয়টি সামনে এলে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ভুলের দায় ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি সংসদে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস পার হয়েছে। অথচ এই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া ও মডারেশনের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, যা বিগত সরকারের আমলের কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে এই ভুলের দায় সরাসরি পূর্ববর্তী প্রশ্ন মডারেটরদের ওপর বর্তায়।

তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে সবাইকে পুরো নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি জানান, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে বৈরী আবহাওয়া ও স্থানীয় সমস্যার কারণে পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সেসব কেন্দ্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার এবং পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবীর প্রতি সংবেদনশীল এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই রাজপথে আন্দোলন না করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ; অকৃতকার্য প্রায় ৬ লাখ

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল: ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা, দেশজুড়ে তোলপাড় ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী

Update Time : ১২:৪০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চলমান ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের ভুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে আজ, ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুক বা না করুক—সব পরীক্ষার্থীকে এই দুটি প্রশ্নের বিপরীতে সম্পূর্ণ বা পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

এর আগে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্নে বড় ধরনের ভুল ও অসংগতি ধরা পড়ায় পরীক্ষার হলেই চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী ভুলের কারণে প্রশ্নের উত্তর মেলাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এদিকে, একদিকে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে প্রশ্নপত্রের এমন নজিরবিহীন ভুলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়ে। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও মোড়ে জড়ো হয়ে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের এই আন্দোলনে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও শামিল হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করেন, যা দেশব্যাপী ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।

আজ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তোলপাড়ের বিষয়টি সামনে এলে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ভুলের দায় ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি সংসদে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস পার হয়েছে। অথচ এই পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া ও মডারেশনের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, যা বিগত সরকারের আমলের কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে এই ভুলের দায় সরাসরি পূর্ববর্তী প্রশ্ন মডারেটরদের ওপর বর্তায়।

তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে সবাইকে পুরো নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি জানান, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে বৈরী আবহাওয়া ও স্থানীয় সমস্যার কারণে পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সেসব কেন্দ্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার এবং পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবীর প্রতি সংবেদনশীল এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই রাজপথে আন্দোলন না করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।