অপরাধে জড়ালে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রান্তিক প্রতিবেদন, ঢাকা ।
পুলিশকে জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশা ধারণ করে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে জনআস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদারিত্ব কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ–২০২৬–এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুলিশ এমন একটি বাহিনী হতে হবে, যা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। সেই আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। তাই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ, অপেশাদারিত্ব কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এসব ঘটনায় বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশের বর্তমান কাঠামো ও ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব তৈরি হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, তিনি এমন একটি পুলিশ বাহিনী দেখতে চান, যারা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ় হলেও আচরণে মানবিক থাকবে। দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পুলিশের অধীনে সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বিবেচনায় আইন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাঠামোতেও সংস্কার আনা হচ্ছে। র্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে, আবার দায়িত্বে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ বাহিনীতে পুরস্কার ও শাস্তির এই ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বিপিএম-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও পিপিএম-সেবা দেওয়া হয়।
পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়; এর সঙ্গে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বও আরও বেড়ে যায়। পদকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রান্তিক প্রতিবেদন, ঢাকা । 



















