স্টাফ রিপোর্টার: লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং দলটি আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে ১১ দলীয় ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।” তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও সুশাসনের পক্ষে অবস্থান নেবে।
ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা হলেও তা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ করি। অন্যের ক্ষতি করা কিংবা উসকানিতে পা দেওয়া আমাদের নীতি নয়।”
এলডিপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, একটি অভিন্ন আদর্শ ও জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও দখলবাজির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: 
























