Dhaka ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবদুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যু: সুরতহাল ঘিরে নতুন বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক
গাজীপুর

১৫ জুলাই,২০২৬।

গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাইনশাইল গ্রামের প্রবাসী যুবক মো. আবদুল্লাহর (২৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না হলেও, সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন হিসেবে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই এমন মন্তব্য তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন জিএমপি সদর থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকার একটি রিসোর্টের স্টোররুমসংলগ্ন স্থান থেকে আবদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের বাবা মো. শাহিন আলম দাবি করেন, ঘটনাস্থল জিএমপি সদর থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় তিনি সেদিন থানায় গেলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা তাকে প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেন। ফলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেননি। পরদিন ২৮ জুন ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাইনশাইল রিয়াজুস সালেহীন কবরস্থানে আবদুল্লাহকে দাফন করা হয়।

পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে ২৯ জুন জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পোস্টমর্টেম, ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে তদন্তের গতিপথকে একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কায়সার হাসান ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিহতের মামাতো বোন সোমার প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায়, আবদুল্লাহ আত্মহত্যা করেছেন। তার সেই প্রাথমিক জবানবন্দির ভিত্তিতেই সুরতহাল প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আবদুল্লাহর মামাতো বোন সোমাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ বিষয়টি উল্লেখ করে নিহতের পরিবারের প্রশ্ন, একজন পরবর্তীকালে এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া ব্যক্তির প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগেই সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত ও তদন্তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী  অ্যাডভোকেট ফিরোজ আল মামুন বলেন

“যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামত বিশ্লেষণের আগেই কেবল কোনো সন্দেহভাজন বা পরবর্তীকালে এজাহারভুক্ত আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা বৈজ্ঞানিক তদন্তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে ভবিষ্যতে মামলার মেরিট ও তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।”

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সুরতহাল মূলত ঘটনাস্থলের একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণমূলক নথি। তাই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটিকে ঘিরে এখনো একাধিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। প্রেমঘটিত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক থেকেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই বাতিল করা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাস্থলের পরিবেশ, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং সুরতহাল প্রতিবেদনের কিছু পর্যবেক্ষণের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে ঘটনাস্থলের কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা কী? তবে অপর একটি পক্ষের মত, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

এর আগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আবদুল্লাহর সঙ্গে তার এক মামাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক এবং তা ঘিরে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচিত সোমার বক্তব্যও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এলাকায় ভিন্নমত রয়েছে। তদন্তকারীরা তার বক্তব্যসহ অন্যান্য সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন মহল, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। তাদের মতে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিজিটাল আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত উপাত্তের সমন্বিত মূল্যায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব।

নিহতের পরিবার পুনরায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, তারা কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত নয়; বরং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সোমার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

(তদন্ত চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যু: সুরতহাল ঘিরে নতুন বিতর্ক, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

Update Time : ০৮:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক
গাজীপুর

১৫ জুলাই,২০২৬।

গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাইনশাইল গ্রামের প্রবাসী যুবক মো. আবদুল্লাহর (২৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না হলেও, সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন হিসেবে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বৈজ্ঞানিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই এমন মন্তব্য তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন জিএমপি সদর থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকার একটি রিসোর্টের স্টোররুমসংলগ্ন স্থান থেকে আবদুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের বাবা মো. শাহিন আলম দাবি করেন, ঘটনাস্থল জিএমপি সদর থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় তিনি সেদিন থানায় গেলে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা তাকে প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেন। ফলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেননি। পরদিন ২৮ জুন ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাইনশাইল রিয়াজুস সালেহীন কবরস্থানে আবদুল্লাহকে দাফন করা হয়।

পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে ২৯ জুন জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পোস্টমর্টেম, ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে তদন্তের গতিপথকে একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কায়সার হাসান ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিহতের মামাতো বোন সোমার প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায়, আবদুল্লাহ আত্মহত্যা করেছেন। তার সেই প্রাথমিক জবানবন্দির ভিত্তিতেই সুরতহাল প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আবদুল্লাহর মামাতো বোন সোমাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ বিষয়টি উল্লেখ করে নিহতের পরিবারের প্রশ্ন, একজন পরবর্তীকালে এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া ব্যক্তির প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগেই সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত ও তদন্তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী  অ্যাডভোকেট ফিরোজ আল মামুন বলেন

“যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামত বিশ্লেষণের আগেই কেবল কোনো সন্দেহভাজন বা পরবর্তীকালে এজাহারভুক্ত আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর ধরন ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা বৈজ্ঞানিক তদন্তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে ভবিষ্যতে মামলার মেরিট ও তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।”

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সুরতহাল মূলত ঘটনাস্থলের একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণমূলক নথি। তাই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটিকে ঘিরে এখনো একাধিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। প্রেমঘটিত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক থেকেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই বাতিল করা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাস্থলের পরিবেশ, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং সুরতহাল প্রতিবেদনের কিছু পর্যবেক্ষণের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে ঘটনাস্থলের কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা কী? তবে অপর একটি পক্ষের মত, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

এর আগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আবদুল্লাহর সঙ্গে তার এক মামাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক এবং তা ঘিরে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচিত সোমার বক্তব্যও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এলাকায় ভিন্নমত রয়েছে। তদন্তকারীরা তার বক্তব্যসহ অন্যান্য সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন মহল, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। তাদের মতে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিজিটাল আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত উপাত্তের সমন্বিত মূল্যায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব।

নিহতের পরিবার পুনরায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, তারা কোনো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত নয়; বরং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সোমার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

(তদন্ত চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।)