বিশেষ প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা) | ৬ জুলাই, ২০২৬
সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে আজ সোমবার রাতে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘটা এই আকস্মিক হামলায় সমাবেশস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা, আতঙ্ক ও রক্তপাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রোতা গুরুতর আহত হয়েছেন।
যেভাবে ছড়াল আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সাভারে ‘জুলাই পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা শেষে থানা স্ট্যান্ডের ঈদগাহ মাঠে সমাপনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। মঞ্চে যখন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই সমাবেশস্থলের পেছনের দিক থেকে বিকট শব্দে একের পর এক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে।
বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় অন্ধাকার হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সভাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু হয়। হুড়োহুড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টায় অনেকেই মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন।
হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনাস্থল থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি সুপরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা। শান্তিপূর্ণ একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নেতৃত্বকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বোমাবাজি করা হয়েছে। স্প্লিন্টারের আঘাতে রক্তাক্ত ও আহত বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাভার থানা স্ট্যান্ড ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ পথচারীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা
ঘটনার পরপরই সাভার মডেল থানার পুলিশের একটি বিশাল দল এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পুরো ঈদগাহ মাঠ ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার পেছনে কোন গোষ্ঠী জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এলাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক। 





















