বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক
ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গণহত্যা, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গতকাল ২৬ জুলাই (রোববার) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।
গুমের শিকার ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামের একটি নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, “বিগত ১৫ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুডিশিয়াল কিলিং, ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে গুম-খুন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম গণহত্যা চালানো হয়েছে। আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার থাকা সত্ত্বেও এসব অপরাধ থামাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তাদের এই নীরবতা অপরাধে মৌন সম্মতির শামিল।”
অভিযোগে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় নীতির কথা উল্লেখ করে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ও তাদের গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি প্রাথমিক স্ক্রুটিনি বা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে জনগণের দাবি ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন অভিযোগ দাখিলের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক। 



















