নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এবং ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের রায়কে অপমান করবেন না। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করেছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। দেরি হলেও বাস্তবতা মেনে নিন। জনগণকে সম্মান করলে জনগণও আপনাদের সম্মান করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া শহীদ এবং আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ দায়িত্ব এখনো পালন করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, সরকারকে জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের প্রতি পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে সমর্থন দিলেও এখন সরকার সেটিকে অবৈধ বলছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি গণভোট অবৈধ হয়, তাহলে সেই গণভোটের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র এখনো প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করেনি। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য, দুঃশাসন, গুম, খুন, সন্ত্রাস ও নিপীড়নমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের টালবাহানা না করে সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাইয়ের চেতনাকে বাস্তব রূপ দিতে তাদের আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা 
























