নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক
জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক টিম মাঠপর্যায়ে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং সাংগঠনিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে কমিটি পুনর্গঠনের সুপারিশ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদল শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। তিনি জানান, রক্তদান কর্মসূচি, ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের শৃঙ্খলা, আদর্শ ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষায় গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
বেআইনি কর্মকাণ্ডে ‘শূন্য সহনশীলতা’
লিখিত বক্তব্যে যুবদল সভাপতি বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং শত শত নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ সংগঠনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তিনি জানান, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বেআইনি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষায় কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা
যুবদল সভাপতি জানান, বিগত এক বছরে সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ৭৮টি পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান, শহীদ পরিবারের জন্য এফডিআর ও নগদ সহায়তা, অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল নেতাকর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা, কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন এলাকায় সেতু ও ব্রিজ নির্মাণে সহযোগিতা।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটির পর সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি
আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে। এ সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সভা, ঢাকা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অপপ্রচার, সন্ত্রাস ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে যুবদল ‘সাংগঠনিক সপ্তাহ’ পালন করেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অংশ নেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ বিভাগে ৩১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব টিমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা, তৃণমূল পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক 

























