Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির দুই ডজনের বেশি উন্নয়ন প্রকল্প আটকে থাকার অভিযোগ ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের-প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী, নথি প্রকাশ

ঢাকা, ৭ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া প্রায় দুই ডজন উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন অনুমোদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিও প্রকাশ করেন।

সাদিক কায়েমের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্প অনুমোদন লাভ করলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় থমকে গেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় স্যার এ এফ রহমান হলের নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ পাঁচটি অবকাঠামোগত প্রকল্পও স্থগিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় নতুন ক্যান্টিন নির্মাণ, প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্প, বড় আকারের টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার উদ্যোগও বাস্তবায়ন হয়নি।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকার খেলার মাঠ সংস্কার এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভে প্রকল্পও বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে শিক্ষার্থীদের খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থগিত হয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরি, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন ও প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ছাত্র হলগুলোর মসজিদের উন্নয়ন ও মক্তব প্রকল্পও আটকে রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, “নতুন সরকার আসার পর থেকে কী কারণে এসব প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।” তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদিত শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বন্ধ রাখা হয়, তবে তা নতুন ধরনের বৈষম্যমূলক সংস্কৃতির জন্ম দেবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল কালিয়াকৈর, পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে এমপি মজিবুর রহমান

ঢাবির দুই ডজনের বেশি উন্নয়ন প্রকল্প আটকে থাকার অভিযোগ ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের-প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী, নথি প্রকাশ

Update Time : ০৫:০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকা, ৭ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া প্রায় দুই ডজন উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন অনুমোদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিও প্রকাশ করেন।

সাদিক কায়েমের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্প অনুমোদন লাভ করলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় থমকে গেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় স্যার এ এফ রহমান হলের নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ পাঁচটি অবকাঠামোগত প্রকল্পও স্থগিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় নতুন ক্যান্টিন নির্মাণ, প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্প, বড় আকারের টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার উদ্যোগও বাস্তবায়ন হয়নি।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকার খেলার মাঠ সংস্কার এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভে প্রকল্পও বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে শিক্ষার্থীদের খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থগিত হয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরি, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন ও প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ছাত্র হলগুলোর মসজিদের উন্নয়ন ও মক্তব প্রকল্পও আটকে রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, “নতুন সরকার আসার পর থেকে কী কারণে এসব প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।” তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদিত শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বন্ধ রাখা হয়, তবে তা নতুন ধরনের বৈষম্যমূলক সংস্কৃতির জন্ম দেবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।