Dhaka ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

উচ্চাভিলাষী রাজস্ব, বিশাল ঘাটতি ও জনস্বস্তির প্রতিশ্রুতির কঠিন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক-প্রান্তিক।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, একদিকে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান; অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা—অর্থনীতিতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি আসবে।

তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯০-৯৯ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এই বিনিয়োগ অপরিহার্য।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে বলেছেন, দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। তাঁর ভাষায়, অর্থনীতিকে স্থবিরতা থেকে বের করে আনতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোই বর্তমান সময়ের বাস্তবতা।

রাজস্ব আদায়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আদায় করতে হবে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজস্ব সাফল্য; ব্যর্থ হলে বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে।

ভ্যাট, আয়কর এবং সম্পূরক শুল্ক থেকেই সরকারের প্রধান রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে করজাল সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনে ডিজিটাল সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রেকর্ড ঘাটতি, বাড়ছে ঋণের বোঝা

প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক উৎস, ব্যাংক ব্যবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করবে। বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধ এখন রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার অন্যতম বড় চাপ হয়ে উঠেছে। আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ক্রমবর্ধমান ঋণ-নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সরকার বলছে, এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি করবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি

বর্তমানে জনগণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একইসঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, চাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে।

কারা স্বস্তি পাবেন, কারা বাড়তি ব্যয় গুনবেন

বাজেটে একদিকে সিগারেট, নিকোটিন পণ্য, বিলাসী প্রসাধনী, আমদানিকৃত কিছু খাদ্যপণ্য এবং নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্প, মোবাইল ফোন উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এর লক্ষ্য হলো একদিকে জনস্বাস্থ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেওয়া।

কর ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত

এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ। করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত করসুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ঘোষণার ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রেই আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে এবং করব্যবস্থার পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে।

বাজেটের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য

এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই বাজেট।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, বাজেটের আকার যত বড়ই হোক, প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা।

প্রান্তিক পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ আজ এক জটিল অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও রাজস্ব ঘাটতি; অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট সেই দ্বৈত বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

সংসদে আজ যে বাজেট উপস্থাপিত হবে, তা কেবল আগামী এক বছরের ব্যয়ের পরিকল্পনা নয়; বরং এটি নির্ধারণ করবে আগামী দশকের অর্থনৈতিক গতিপথ। তাই প্রশ্ন একটাই—এই উচ্চাভিলাষী বাজেট কি বাস্তবায়নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে, নাকি বিশাল লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধানই হয়ে উঠবে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

Update Time : ০৫:০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

উচ্চাভিলাষী রাজস্ব, বিশাল ঘাটতি ও জনস্বস্তির প্রতিশ্রুতির কঠিন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক-প্রান্তিক।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, একদিকে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান; অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা—অর্থনীতিতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি আসবে।

তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯০-৯৯ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এই বিনিয়োগ অপরিহার্য।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে বলেছেন, দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। তাঁর ভাষায়, অর্থনীতিকে স্থবিরতা থেকে বের করে আনতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোই বর্তমান সময়ের বাস্তবতা।

রাজস্ব আদায়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আদায় করতে হবে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজস্ব সাফল্য; ব্যর্থ হলে বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে।

ভ্যাট, আয়কর এবং সম্পূরক শুল্ক থেকেই সরকারের প্রধান রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে করজাল সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনে ডিজিটাল সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রেকর্ড ঘাটতি, বাড়ছে ঋণের বোঝা

প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক উৎস, ব্যাংক ব্যবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করবে। বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধ এখন রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার অন্যতম বড় চাপ হয়ে উঠেছে। আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ক্রমবর্ধমান ঋণ-নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সরকার বলছে, এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি করবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি

বর্তমানে জনগণের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একইসঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, চাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে।

কারা স্বস্তি পাবেন, কারা বাড়তি ব্যয় গুনবেন

বাজেটে একদিকে সিগারেট, নিকোটিন পণ্য, বিলাসী প্রসাধনী, আমদানিকৃত কিছু খাদ্যপণ্য এবং নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্প, মোবাইল ফোন উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এর লক্ষ্য হলো একদিকে জনস্বাস্থ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেওয়া।

কর ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত

এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ। করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত করসুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ঘোষণার ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রেই আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে এবং করব্যবস্থার পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে।

বাজেটের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য

এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই বাজেট।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, বাজেটের আকার যত বড়ই হোক, প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা।

প্রান্তিক পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ আজ এক জটিল অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও রাজস্ব ঘাটতি; অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট সেই দ্বৈত বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

সংসদে আজ যে বাজেট উপস্থাপিত হবে, তা কেবল আগামী এক বছরের ব্যয়ের পরিকল্পনা নয়; বরং এটি নির্ধারণ করবে আগামী দশকের অর্থনৈতিক গতিপথ। তাই প্রশ্ন একটাই—এই উচ্চাভিলাষী বাজেট কি বাস্তবায়নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে, নাকি বিশাল লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধানই হয়ে উঠবে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?