Dhaka ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনসেবার প্রত্যয়ে উপজেলা মাঠে অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল বারী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৭৮ Time View

“গাজীপুর সদর উপজেলাকে মানবিক, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই”
বিশেষ প্রতিবেদন – প্রান্তিকঃ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল বারী। শিক্ষকতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা, প্রত্যয় ও জনসেবার অঙ্গীকার তুলে ধরতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর সদর উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর এবং ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আব্দুল বারী এক বিস্তৃত শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতা অর্জনের পথ নয়; বরং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার একটি নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়বদ্ধতার অনুভূতিই বড় হয়ে ওঠে।” দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে তিনি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। এ জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

একজন শিক্ষক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, সংকট ও সম্ভাবনাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে বেকারত্ব ও দিকনির্দেশনার অভাব। মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের রক্ষা করতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি আগামীর পথচলা শুরু করতে চান। তার ভাষায়, “নির্বাচন আমার কাছে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং এটি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কথা শোনা, তাদের আশা-হতাশার গল্প জানা এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ।”

গাজীপুর সদর উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পদের দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি এখানে রয়েছে নানা জটিল সংকটও। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বেকারত্ব, মাদক সমস্যা, সামাজিক অবক্ষয়, পরিবেশ দূষণ, যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক সেবায় দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত কঠিন করে তুলছে।

তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাজ কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি মানুষের সমস্যা সমাধানে জবাবদিহিমূলক ও সেবাধর্মী প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবেন বলে জানান।
তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার যুবসমাজের ওপর। কিন্তু বর্তমান সময়ে বহু তরুণ বেকারত্ব, হতাশা ও দিকনির্দেশনার অভাবে বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যাগুলো তরুণ সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে সমাজে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সহায়ক উদ্যোগ, পাঠাগার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। তার মতে, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে পুরো সমাজের চিত্র পাল্টে যাবে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষকে আলোকিত, বিবেকবান ও মানবিক করে তোলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করার কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যখাতের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ এখনও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। গ্রামীণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং সচেতনতার অভাব মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। এ অবস্থায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র রোগীদের সহায়তা, প্রবীণদের চিকিৎসা সুবিধা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি ও কৃষকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, কৃষক দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলেও অনেক সময় তারা উৎপাদন খরচ, বাজার সংকট ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের সহজ সহায়তা প্রদান এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনীতিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, রাজনীতি যদি মানবিকতা ও সততা হারায়, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। তাই তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে, যেখানে শিষ্টাচার, জবাবদিহিতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি মানে জনগণের সেবক। নির্বাচিত হলে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। কোনো মানুষ যেন তার ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং দরিদ্র মানুষ যেন অবহেলার শিকার না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান।
মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি কাজ করতে চান। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কথা শোনা, সমস্যা বোঝা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।

গাজীপুর সদর উপজেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। খাল-নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার গুরুত্ব উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল প্রশাসনিক সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে অধ্যাপক আব্দুল বারী গাজীপুর সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুর সদর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মানবিক, শিক্ষাবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি বিভেদ নয়—ঐক্যের পথে হাঁটি, প্রতিহিংসা নয়—সহমর্মিতার সমাজ গড়ি এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিই, তাহলেই আমাদের আগামী হবে আরও সুন্দর ও আলোকিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমাবেশ

জনসেবার প্রত্যয়ে উপজেলা মাঠে অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল বারী

Update Time : ০৮:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

“গাজীপুর সদর উপজেলাকে মানবিক, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই”
বিশেষ প্রতিবেদন – প্রান্তিকঃ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল বারী। শিক্ষকতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা, প্রত্যয় ও জনসেবার অঙ্গীকার তুলে ধরতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর সদর উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর এবং ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আব্দুল বারী এক বিস্তৃত শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতা অর্জনের পথ নয়; বরং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার একটি নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়বদ্ধতার অনুভূতিই বড় হয়ে ওঠে।” দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে তিনি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। এ জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

একজন শিক্ষক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, সংকট ও সম্ভাবনাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে বেকারত্ব ও দিকনির্দেশনার অভাব। মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের রক্ষা করতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি আগামীর পথচলা শুরু করতে চান। তার ভাষায়, “নির্বাচন আমার কাছে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং এটি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কথা শোনা, তাদের আশা-হতাশার গল্প জানা এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ।”

গাজীপুর সদর উপজেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পদের দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি এখানে রয়েছে নানা জটিল সংকটও। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বেকারত্ব, মাদক সমস্যা, সামাজিক অবক্ষয়, পরিবেশ দূষণ, যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক সেবায় দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত কঠিন করে তুলছে।

তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাজ কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়; বরং মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি মানুষের সমস্যা সমাধানে জবাবদিহিমূলক ও সেবাধর্মী প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবেন বলে জানান।
তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার যুবসমাজের ওপর। কিন্তু বর্তমান সময়ে বহু তরুণ বেকারত্ব, হতাশা ও দিকনির্দেশনার অভাবে বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমস্যাগুলো তরুণ সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে সমাজে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সহায়ক উদ্যোগ, পাঠাগার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। তার মতে, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে পুরো সমাজের চিত্র পাল্টে যাবে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষকে আলোকিত, বিবেকবান ও মানবিক করে তোলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করার কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যখাতের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ এখনও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। গ্রামীণ অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং সচেতনতার অভাব মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। এ অবস্থায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র রোগীদের সহায়তা, প্রবীণদের চিকিৎসা সুবিধা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি ও কৃষকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, কৃষক দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলেও অনেক সময় তারা উৎপাদন খরচ, বাজার সংকট ও ন্যায্যমূল্যের অভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের সহজ সহায়তা প্রদান এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনীতিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, রাজনীতি যদি মানবিকতা ও সততা হারায়, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। তাই তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে, যেখানে শিষ্টাচার, জবাবদিহিতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি মানে জনগণের সেবক। নির্বাচিত হলে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। কোনো মানুষ যেন তার ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং দরিদ্র মানুষ যেন অবহেলার শিকার না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান।
মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি কাজ করতে চান। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের কথা শোনা, সমস্যা বোঝা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।

গাজীপুর সদর উপজেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। খাল-নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার গুরুত্ব উল্লেখ করে অধ্যাপক আব্দুল বারী বলেন, সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল প্রশাসনিক সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে অধ্যাপক আব্দুল বারী গাজীপুর সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুর সদর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মানবিক, শিক্ষাবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি বিভেদ নয়—ঐক্যের পথে হাঁটি, প্রতিহিংসা নয়—সহমর্মিতার সমাজ গড়ি এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিই, তাহলেই আমাদের আগামী হবে আরও সুন্দর ও আলোকিত।