Dhaka ০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মহারণও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, রুদ্ধশ্বাস লড়াই, কৌশলের দ্বৈরথ, উন্মাদনা, নাটকীয়তা—সবকিছুর শেষ অধ্যায়ে হাসল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোজা। এর মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসেছে স্পেন।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই লাল জার্সিধারী স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে শুরু হয় বিজয়ের উৎসব। অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় আর্জেন্টাইন শিবিরে নেমে আসে গভীর হতাশা। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি ঘটে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দৃঢ়তার সঙ্গে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। বিরতির পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, আর আর্জেন্টিনা অপেক্ষা করতে থাকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগের।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৯০+৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আলবিসেলেস্তেদের ওপর তখন চাপ আরও বেড়ে যায়। তবুও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও সতীর্থের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু স্পেনের ধারাবাহিক চাপ শেষ পর্যন্ত ফল দেয় ১০৬তম মিনিটে। বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগে ক্ষিপ্রগতির শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। গোল হজমের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তোরেসের সেই একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল, রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠের আধিপত্য এবং সুসংগঠিত রক্ষণ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। বিশ্বকাপজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হিসেবেই আসে এই সাফল্য।

এই শিরোপার মধ্য দিয়ে স্পেন বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক গোলে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। অন্যদিকে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারল না।

এদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও নিজের অর্জনের ঝুলিতে যোগ করলেন তিনি। নতুন প্রজন্মের এই তারকাকে ঘিরেই স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

Update Time : ০৬:৩৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মহারণও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, রুদ্ধশ্বাস লড়াই, কৌশলের দ্বৈরথ, উন্মাদনা, নাটকীয়তা—সবকিছুর শেষ অধ্যায়ে হাসল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোজা। এর মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসেছে স্পেন।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই লাল জার্সিধারী স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে শুরু হয় বিজয়ের উৎসব। অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় আর্জেন্টাইন শিবিরে নেমে আসে গভীর হতাশা। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি ঘটে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দৃঢ়তার সঙ্গে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। বিরতির পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, আর আর্জেন্টিনা অপেক্ষা করতে থাকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগের।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৯০+৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আলবিসেলেস্তেদের ওপর তখন চাপ আরও বেড়ে যায়। তবুও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও সতীর্থের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু স্পেনের ধারাবাহিক চাপ শেষ পর্যন্ত ফল দেয় ১০৬তম মিনিটে। বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগে ক্ষিপ্রগতির শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। গোল হজমের পর ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তোরেসের সেই একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবল, রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠের আধিপত্য এবং সুসংগঠিত রক্ষণ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। বিশ্বকাপজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হিসেবেই আসে এই সাফল্য।

এই শিরোপার মধ্য দিয়ে স্পেন বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক গোলে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। অন্যদিকে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারল না।

এদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও নিজের অর্জনের ঝুলিতে যোগ করলেন তিনি। নতুন প্রজন্মের এই তারকাকে ঘিরেই স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।