বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এখন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স ও উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনর্মঞ্চায়ন হতে চলেছে এই লড়াইয়ে। সেবার মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ করেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। চার বছর পর ‘আটলাস লায়ন্স’রা সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মাঠে নামছে, আর ফ্রান্স নামছে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার লক্ষ্য নিয়ে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
ফ্রান্সের সামনে রয়েছে অনন্য এক কীর্তি গড়ার সুযোগ। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়া ‘লে ব্লু’রা এবার সেমিফাইনালে উঠতে পারলে টানা তিন বিশ্বকাপে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া মাত্র তৃতীয় দেশ হবে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছে শুধু জার্মানি ও ব্রাজিল। চলতি আসরে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিরা নকআউট পর্বে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে। যদিও ম্যাচজুড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
টুর্নামেন্টে এমবাপ্পে ইতোমধ্যে সাত গোল করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন। গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট ও একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে ফরাসি আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। অন্যদিকে মাইকেল অলিসে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নজর কেড়েছেন। ড্রিবলিং, ওপেন প্লে থেকে সুযোগ সৃষ্টি এবং থ্রু বল দেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার।
অন্যদিকে মরক্কো এবারও নিজেদের রূপকথার যাত্রা ধরে রেখেছে। শেষ ষোলোয় কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি টানা দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রথম পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে নতুন আফ্রিকান রেকর্ড গড়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এবার আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে মাঠে নামছে।
মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি ব্রাহিম দিয়াজ ও অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক ফুটবলে দিয়াজ গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই দলের সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড়। অন্যদিকে পিএসজি তারকা হাকিমি রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও সমান কার্যকর। গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে কোনো ডিফেন্ডারের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি, যা মরক্কোর আক্রমণভাগকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
তবে ম্যাচের আগে দুই দলই কিছুটা ইনজুরি-দুশ্চিন্তায় রয়েছে। মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি কানাডার বিপক্ষে উরুর চোটে মাঠ ছাড়েন, ফলে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ডিফেন্ডার চাদি রিয়াদকেও পুরোপুরি ফিট বলে নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে ফ্রান্সে অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির ইনজুরি এবং উইলিয়াম সালিবার ফিটনেস নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে কোচ দিদিয়ের দেশমকে।
পরিসংখ্যান বলছে, মুখোমুখি লড়াইয়ে ফ্রান্স এগিয়ে। দুই দলের ছয় দেখায় ফরাসিরা জিতেছে চারটিতে, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ রেকর্ড ফ্রান্সের জন্য কিছুটা সতর্কবার্তা বহন করে।
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসেও এগিয়ে ফ্রান্স। তাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ, মরক্কোর সম্ভাবনা প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা ২২ শতাংশের কাছাকাছি।
এই ম্যাচটি দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে এটি তার ২৫তম ম্যাচ, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি হেলমুট শোনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৫ ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।
বোস্টনের এই মহারণে জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের বিপক্ষে। একদিকে ফ্রান্সের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের স্বপ্ন, অন্যদিকে মরক্কোর প্রতিশোধ ও নতুন ইতিহাস লেখার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আরেকটি স্মরণীয় নকআউট লড়াইয়ের।
স্পোর্টস ডেক্স-দৈনিক প্রানি্তক। 
























