Dhaka ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেহরানে শুরু খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় (মোসাল্লা-এ-ইমাম খোমেনি) শুক্রবার ভোর থেকে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে নিহত অন্যান্য ব্যক্তির মরদেহও সেখানে আনা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, দুই দিন ধরে সাধারণ মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। প্রথম দিনেই দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মীয় নেতা, আলেম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় প্রতিনিধিরা প্রথম দিকেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া, কিউবাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি রাজধানী তেহরানজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জাতি, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাই যেন এই জাতীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন। তার ভাষায়, এটি হবে জাতীয় সংহতি, ঐক্য এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকারের প্রতীক।

তেহরানের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো শোকানুষ্ঠানজুড়ে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৬ জুলাই রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।

চার দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই বহুদিবসীয় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একজন রাষ্ট্রনেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতারও একটি প্রতীকী আয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল কালিয়াকৈর, পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে এমপি মজিবুর রহমান

তেহরানে শুরু খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

Update Time : ০৬:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় (মোসাল্লা-এ-ইমাম খোমেনি) শুক্রবার ভোর থেকে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে নিহত অন্যান্য ব্যক্তির মরদেহও সেখানে আনা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, দুই দিন ধরে সাধারণ মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। প্রথম দিনেই দেশ-বিদেশ থেকে আগত ধর্মীয় নেতা, আলেম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় প্রতিনিধিরা প্রথম দিকেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া, কিউবাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি রাজধানী তেহরানজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জাতি, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাই যেন এই জাতীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন। তার ভাষায়, এটি হবে জাতীয় সংহতি, ঐক্য এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকারের প্রতীক।

তেহরানের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো শোকানুষ্ঠানজুড়ে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৬ জুলাই রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।

চার দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই বহুদিবসীয় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একজন রাষ্ট্রনেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতারও একটি প্রতীকী আয়োজন।