বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টের আদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ নভেম্বর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতের আদেশের পর আখতারুজ্জামানের কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরও আগে ৪ অক্টোবর এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিমানবন্দরে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় গেলে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সময় আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও নিম্ন আদালতে জামিন প্রত্যাখ্যান
বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এ পুনরায় জামিন আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন আখতারুজ্জামান। রোববার শুনানি শেষে আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন এবং স্থায়ী জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ নভেম্বর ২০২৬ 














