Dhaka ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদু: জাপানকে হারিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রশংসায় ব্রাজিল

বিশেষ ক্রীড়া প্রতিবেদন-দৈনিক প্রান্তিক।

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর শুধু বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি ব্রাজিল, একই সঙ্গে জয় করেছে বিশ্ব গণমাধ্যমের মনোযোগও। উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ের সেই গোলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ব্রাজিলের এই জয়কে বর্ণনা করেছে—‘নাটকীয়’, ‘রোমাঞ্চকর’ এবং ‘মহাকাব্যিক’ হিসেবে।

জাপান ম্যাচের শুরু থেকেই সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। এক পর্যায়ে তারা ব্রাজিলকে চাপে ফেলে এগিয়েও যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনের পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে মার্টিনেল্লির নিখুঁত ফিনিশিং ব্রাজিলকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ জয়।

দ্য গার্ডিয়ান: ব্রাজিল এখনো সেরা ছন্দে নয়, তবে জিততে জানে

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনো তাদের প্রত্যাশিত সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের সময় ফল বের করে আনার ক্ষমতা।

গার্ডিয়ানের মতে, কার্লো আনচেলত্তির পরিচিত কৌশল আবারও দেখা গেছে এই ম্যাচে। প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং দলের তারকাদের বড় মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত রাখা—এই দর্শনেই যেন এগিয়ে চলছে ব্রাজিল।

রিয়াল মাদ্রিদে যে কৌশলে সাফল্য পেয়েছিলেন ইতালিয়ান এই কোচ, ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও সেই কৌশলের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে সংবাদমাধ্যমটি।

একই সঙ্গে জাপানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল জাপানের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। প্রথমার্ধে তারা শুধু ব্রাজিলকে আটকে রাখেনি, বরং আত্মবিশ্বাসী ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস: মার্টিনেল্লির গোলে নাটকীয় উদ্ধার

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাচটিকে বর্ণনা করেছে ‘রোমাঞ্চকর’ ও ‘নাটকীয়’ এক ফুটবল লড়াই হিসেবে।

তাদের প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল, যা ব্রাজিলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমস কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। প্রথমার্ধে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোচ আনচেলত্তি তাকে মাঠে রেখে দেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে তাকে আরও স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেন। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাসেমিরোর হেড থেকে আসে সমতাসূচক গোল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বড় ম্যাচে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করা যেন কাসেমিরোর পুরোনো অভ্যাস।

মার্কা: ক্যাপ্টেন সুবাসার গল্পের মতো নাটকীয় সমাপ্তি

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ব্রাজিলের এই জয়কে তুলনা করেছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন সিরিজ ক্যাপ্টেন সুবাসা–র নাটকীয় গল্পের সঙ্গে।

মার্কার ভাষায়, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত ছিল যেন কোনো অ্যানিমেটেড ফুটবল সিনেমার ক্লাইম্যাক্স।

তাদের মতে, বর্তমান ব্রাজিল হয়তো সবসময় সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলছে না, কিন্তু দলটির রয়েছে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষমতাই তাদের বড় শক্তি।

মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলকে তারা তুলনা করেছে ক্যাপ্টেন সুবাসার নায়কোচিত মুহূর্তের সঙ্গে।

লেকিপ: মহাকাব্যিক জয়, তবে সামনে কঠিন পরীক্ষা

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ ব্রাজিলের জয়কে এক শব্দে বর্ণনা করেছে—‘মহাকাব্যিক’।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে খেলেছে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে নকআউট পর্বে আরও উন্নত, ধারালো এবং ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলতে হবে আনচেলত্তির দলকে।

বিশ্ব গণমাধ্যমের মূল্যায়ন: ব্রাজিলের শক্তি মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্রাজিল এখনো নিখুঁত দল হয়ে ওঠেনি। তবে অভিজ্ঞতা, তারকাদের বড় মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা এবং শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে, ব্রাজিল শুধু নান্দনিক ফুটবলের দল নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যও তাদের রয়েছে। এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় কার্লো আনচেলত্তির দল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

একরাম হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি: সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদু: জাপানকে হারিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রশংসায় ব্রাজিল

Update Time : ০৮:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশেষ ক্রীড়া প্রতিবেদন-দৈনিক প্রান্তিক।

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর শুধু বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি ব্রাজিল, একই সঙ্গে জয় করেছে বিশ্ব গণমাধ্যমের মনোযোগও। উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ের সেই গোলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ব্রাজিলের এই জয়কে বর্ণনা করেছে—‘নাটকীয়’, ‘রোমাঞ্চকর’ এবং ‘মহাকাব্যিক’ হিসেবে।

জাপান ম্যাচের শুরু থেকেই সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। এক পর্যায়ে তারা ব্রাজিলকে চাপে ফেলে এগিয়েও যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনের পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে মার্টিনেল্লির নিখুঁত ফিনিশিং ব্রাজিলকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ জয়।

দ্য গার্ডিয়ান: ব্রাজিল এখনো সেরা ছন্দে নয়, তবে জিততে জানে

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনো তাদের প্রত্যাশিত সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের সময় ফল বের করে আনার ক্ষমতা।

গার্ডিয়ানের মতে, কার্লো আনচেলত্তির পরিচিত কৌশল আবারও দেখা গেছে এই ম্যাচে। প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং দলের তারকাদের বড় মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত রাখা—এই দর্শনেই যেন এগিয়ে চলছে ব্রাজিল।

রিয়াল মাদ্রিদে যে কৌশলে সাফল্য পেয়েছিলেন ইতালিয়ান এই কোচ, ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও সেই কৌশলের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে সংবাদমাধ্যমটি।

একই সঙ্গে জাপানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল জাপানের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। প্রথমার্ধে তারা শুধু ব্রাজিলকে আটকে রাখেনি, বরং আত্মবিশ্বাসী ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস: মার্টিনেল্লির গোলে নাটকীয় উদ্ধার

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাচটিকে বর্ণনা করেছে ‘রোমাঞ্চকর’ ও ‘নাটকীয়’ এক ফুটবল লড়াই হিসেবে।

তাদের প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল, যা ব্রাজিলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমস কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। প্রথমার্ধে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোচ আনচেলত্তি তাকে মাঠে রেখে দেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে তাকে আরও স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেন। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাসেমিরোর হেড থেকে আসে সমতাসূচক গোল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বড় ম্যাচে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করা যেন কাসেমিরোর পুরোনো অভ্যাস।

মার্কা: ক্যাপ্টেন সুবাসার গল্পের মতো নাটকীয় সমাপ্তি

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ব্রাজিলের এই জয়কে তুলনা করেছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন সিরিজ ক্যাপ্টেন সুবাসা–র নাটকীয় গল্পের সঙ্গে।

মার্কার ভাষায়, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত ছিল যেন কোনো অ্যানিমেটেড ফুটবল সিনেমার ক্লাইম্যাক্স।

তাদের মতে, বর্তমান ব্রাজিল হয়তো সবসময় সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলছে না, কিন্তু দলটির রয়েছে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষমতাই তাদের বড় শক্তি।

মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলকে তারা তুলনা করেছে ক্যাপ্টেন সুবাসার নায়কোচিত মুহূর্তের সঙ্গে।

লেকিপ: মহাকাব্যিক জয়, তবে সামনে কঠিন পরীক্ষা

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ ব্রাজিলের জয়কে এক শব্দে বর্ণনা করেছে—‘মহাকাব্যিক’।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে খেলেছে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে নকআউট পর্বে আরও উন্নত, ধারালো এবং ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলতে হবে আনচেলত্তির দলকে।

বিশ্ব গণমাধ্যমের মূল্যায়ন: ব্রাজিলের শক্তি মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্রাজিল এখনো নিখুঁত দল হয়ে ওঠেনি। তবে অভিজ্ঞতা, তারকাদের বড় মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা এবং শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে, ব্রাজিল শুধু নান্দনিক ফুটবলের দল নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যও তাদের রয়েছে। এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় কার্লো আনচেলত্তির দল।