Dhaka ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা, স্মারক স্বাক্ষর শুক্রবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে সমঝোতার পথে এগোলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে এবং এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-মওইউ) আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্র্যাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথকভাবে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ ও বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে ঐকমত্য হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রনালী পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তিনি দাবি করেন, চুক্তিতে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং এটি একটি প্রাথমিক রাজনৈতিক কাঠামো। চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তেল রপ্তানিবিষয়ক কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের স্থগিত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালাবে।

সমঝোতার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুক্রবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে এটি বিবেচিত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক ইস্যুসহ বাকি বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই দেশের সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল কালিয়াকৈর, পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে এমপি মজিবুর রহমান

অবশেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা, স্মারক স্বাক্ষর শুক্রবার

Update Time : ০৩:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে সমঝোতার পথে এগোলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে এবং এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-মওইউ) আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্র্যাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথকভাবে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ ও বৈরিতা অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে ঐকমত্য হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রনালী পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তিনি দাবি করেন, চুক্তিতে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং এটি একটি প্রাথমিক রাজনৈতিক কাঠামো। চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তেল রপ্তানিবিষয়ক কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের স্থগিত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালাবে।

সমঝোতার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুক্রবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে এটি বিবেচিত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক ইস্যুসহ বাকি বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই দেশের সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।