নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৩ জুন ২০২৬
দেশের বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি প্রায় ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা শতাংশ হিসেবে প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক হারে মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামার কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্যারিফ সমন্বয়কে অর্থনৈতিকভাবে জরুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নিম্নআয়ের গ্রাহকদের জন্য ‘লাইফলাইন’ সুবিধা বজায় রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ (প্রায় ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) ব্যবহারের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি এখন যাচাই-বাছাই ও কারিগরি কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে। এরপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া নতুন দর কার্যকর হবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন খরচ ও সাধারণ ভোক্তার মাসিক বিল—উভয়ের ওপরই চাপ পড়তে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিইআরসি ঘোষণার পরই নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জহিরুল ইসলাম- 













