মোঃরওশন আলী, বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত মেগাসান ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন ও সংযোজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ঈশ্বরদীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশে উৎপাদিত হলে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে সরঞ্জাম আমদানির প্রয়োজন কমে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল স্মারক ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিনের সঙ্গে যৌথভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানের ইকুইপমেন্ট টেস্টিং ল্যাব উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ, পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. শোয়াইব এবং পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদুল হাসান টপি। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ২০০৭ সাল থেকে তুরস্কে উৎপাদিত মেগাসানের চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঈশ্বরদীতে আধুনিক সংযোজন কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এখানে মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন ব্যবস্থা, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, বেডহেড ইউনিট, মেডিকেল পেনড্যান্ট, গ্যাস আউটলেট, অ্যালার্ম ও মনিটরিং সিস্টেমসহ আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংযোজন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, দেশেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাত আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দ্রুত কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বিদেশ থেকে সরঞ্জাম আমদানির ব্যয়ও কমবে।
তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটিতে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশে তৈরি’ চিকিৎসা প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মো. শহিদুল হাসান ববি সরদার।
নতুন এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, এ উদ্যোগ দেশীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বনির্ভর করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাড়াবে।
মোঃরওশন আলী, বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রান্তিক 




















