Dhaka ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৬ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

উজানের ঢল এবং দেশের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেশের অন্তত ছয়টি নদীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও নয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি, অর্থাৎ সতর্কসীমায় অবস্থান করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের মধ্যে ৫৭টি পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৪টি পয়েন্টে কমেছে এবং ছয়টি পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও কিছু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

এদিকে আরও নয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট ও ছাতক, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা, মুহুরী নদীর হরিপুর এবং মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় পানি আরও বৃদ্ধি পেলে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তর ও উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে। অন্যদিকে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির প্রবাহে পড়ছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নদ-নদীর পানির স্তর কমে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৬ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

Update Time : ০৬:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

উজানের ঢল এবং দেশের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেশের অন্তত ছয়টি নদীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও নয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি, অর্থাৎ সতর্কসীমায় অবস্থান করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের মধ্যে ৫৭টি পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৪টি পয়েন্টে কমেছে এবং ছয়টি পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও কিছু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

এদিকে আরও নয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট ও ছাতক, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা, মুহুরী নদীর হরিপুর এবং মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় পানি আরও বৃদ্ধি পেলে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তর ও উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে। অন্যদিকে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির প্রবাহে পড়ছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নদ-নদীর পানির স্তর কমে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।