২০২১ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গুমের প্রমাণ নিয়ে জাতিসংঘ, দাতা এবং বেসরকারি সংস্থার উত্থাপিত উদ্বেগগুলো খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২২’ এ কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ মহামারিকে ব্যবহার করে একটি হতাশাজনক বার্তা দিয়েছে যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনার শাস্তি দেওয়া হবে। তবুও সাংবাদিক, চিকিৎসাকর্মী এবং অ্যাক্টিভিস্টরা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সেসব বাধাগুলোকে তুলে ধরেছেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অনেক মানুষ এই প্রতিবন্ধকতাগুলোর সম্মুখীন হয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার ৩২তম সংস্করণের ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২২-এর ৭৫২ পৃষ্ঠায় প্রায় ১০০টি দেশের মানবাধিকার অনুশীলন পর্যালোচনা করেছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ প্রচলিত অভিজ্ঞতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্ব মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। দেশে দেশে, সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, এমনকি গ্রেফতার বা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, যা দেখায় যে গণতন্ত্রের আহ্বান এখনও শক্তিশালী রয়েছে। এদিকে, স্বৈরাচারীরা তাদের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা আরও কঠিন বলে দেখতে পাচ্ছে।
কেনেথ রথ বলেন, গণতান্ত্রিক নেতৃত্বদের অবশ্যই জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এবং গণতন্ত্র যেন তার প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ প্রদান করে, তা নিশ্চিত করার জন্য আরও ভালো কাজ করতে হবে।
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মারা যাওয়া প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুশতাক আহমেদ, যিনি একজন লেখক। নয় মাস বিচার পূর্ববর্তী আটকাবস্থার পর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। ফেসবুকে কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করায় সেই সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
Reporter Name 





















