ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধের অভিযোগ, এক আসামি কারাগারে
স্টাফ রিপোর্টার-দৈনিক প্রান্তিক।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে গ্রেপ্তার আসামি আমিনুর রহমানকে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (জিআরও) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার সকালে ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) এবং রাকিবুল হাসানকে (৩০)। তাদের মধ্যে আমিনুর রহমান বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।
এজাহারে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তার ভাগ্নির সঙ্গে নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া শুরু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ভিডিওগুলো তিনিই ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও একটি ব্ল্যাকমেইলকারী চক্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকেই তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার মা তাহমিনা বেগম ও ছোট বোন মীম চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
স্টাফ রিপোর্টার-দৈনিক প্রান্তিক। 





















