Dhaka ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের এক বছর

তদন্তে উঠে এলো পাইলটের প্রশিক্ষণ ঘাটতি, তত্ত্বাবধানের দুর্বলতা; বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশ সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীসহ ৩৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এক বছর পরও অনেক আহত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। এদিকে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের ঘাটতি, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতার কথা উঠে এলেও অধিকাংশ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শহীদদের স্মরণে দুই দিনের কর্মসূচি

বেদনাবিধুর এই দিন উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুই দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরুন্নবী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ রিফাত নবী আলম।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কবর জিয়ারত এবং দোয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।

আজ মঙ্গলবার শোক দিবস উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মাহফিল। এসব কর্মসূচি দুর্ঘটনাস্থল দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে সকাল ১০টা ও বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্তে কী উঠে এসেছে

সরকার গঠিত নয় সদস্যের তদন্ত কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান, তিন মাসের বেশি সময় তদন্ত চালিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন নিজস্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রাজউকসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং তার গ্রাউন্ড সুপারভাইজার বা অফিসার কমান্ডিংয়ের পর্যাপ্ত ও কার্যকর তত্ত্বাবধানের অভাব। কমিশনের মতে, এটি ছিল পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের প্রথম একক (সোলো) প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন।

উড্ডয়ন থেকে দুর্ঘটনা: শেষ সাত মিনিট

তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার আগের কয়েক মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে বিমানটি প্রথম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পরে দুপুর ১টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে রানওয়ে-১৪ থেকে উড্ডয়ন করে প্রায় ১,৫০০ ফুট উচ্চতায় সার্কিট ফ্লাইং অনুশীলন শুরু করেন পাইলট।

প্রথম সার্কিট শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সার্কিটে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুর ১টা ১১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে অফিসার কমান্ডিং পাইলটকে ‘বেজ টার্ন’ করার নির্দেশ দেন। দুই সেকেন্ড পর পাইলটের শেষ বার্তা আসে—”রজার, টার্নিং লেফট”। এরপর দুপুর ১টা ১৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডে এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টাওয়ার থেকে পাঁচবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে দুপুর ১টা ১৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে মোবাইল ফোনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানানো হয়।

সিসিটিভিতে কী দেখা গেছে

বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, মাইলস্টোন স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির উইন্ডশিল্ডে একটি কালো দাগ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো পাখি অথবা উড্ডীয়মান বস্তুর আঘাতে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটিকে দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি; আরও কারিগরি বিশ্লেষণের সুপারিশ করা হয়েছে।

একটি সিঁড়ি, বেড়েছে প্রাণহানি

তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভবনটিতে কার্যত একটি মাত্র জরুরি বের হওয়ার পথ বা সিঁড়ি ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমানটি আঘাত হানে ঠিক সেই অংশেই। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কমিশন ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুমুখী জরুরি নির্গমনপথ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

লাশ গুমের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের মরদেহ গুমের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তদন্ত কমিশন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

ক্ষতিপূরণ ও সংস্কার এখনো ঝুলে আছে

তদন্ত কমিশন আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ফ্লাইট নিরাপত্তা জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন ব্যবস্থার সংস্কার, ফ্লাইং জোনে অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ এবং জনবহুল এলাকার ওপর প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা বিষয়ে ৩০টির বেশি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার এক বছর পরও এসব সুপারিশের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছিল এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শাপলা চত্বর মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

আজ মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের এক বছর

Update Time : ০৭:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

তদন্তে উঠে এলো পাইলটের প্রশিক্ষণ ঘাটতি, তত্ত্বাবধানের দুর্বলতা; বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশ সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীসহ ৩৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এক বছর পরও অনেক আহত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। এদিকে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের ঘাটতি, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতার কথা উঠে এলেও অধিকাংশ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শহীদদের স্মরণে দুই দিনের কর্মসূচি

বেদনাবিধুর এই দিন উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুই দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরুন্নবী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ রিফাত নবী আলম।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কবর জিয়ারত এবং দোয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।

আজ মঙ্গলবার শোক দিবস উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মাহফিল। এসব কর্মসূচি দুর্ঘটনাস্থল দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে সকাল ১০টা ও বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্তে কী উঠে এসেছে

সরকার গঠিত নয় সদস্যের তদন্ত কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান, তিন মাসের বেশি সময় তদন্ত চালিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন নিজস্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রাজউকসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং তার গ্রাউন্ড সুপারভাইজার বা অফিসার কমান্ডিংয়ের পর্যাপ্ত ও কার্যকর তত্ত্বাবধানের অভাব। কমিশনের মতে, এটি ছিল পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের প্রথম একক (সোলো) প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন।

উড্ডয়ন থেকে দুর্ঘটনা: শেষ সাত মিনিট

তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার আগের কয়েক মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে বিমানটি প্রথম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পরে দুপুর ১টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে রানওয়ে-১৪ থেকে উড্ডয়ন করে প্রায় ১,৫০০ ফুট উচ্চতায় সার্কিট ফ্লাইং অনুশীলন শুরু করেন পাইলট।

প্রথম সার্কিট শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সার্কিটে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুর ১টা ১১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে অফিসার কমান্ডিং পাইলটকে ‘বেজ টার্ন’ করার নির্দেশ দেন। দুই সেকেন্ড পর পাইলটের শেষ বার্তা আসে—”রজার, টার্নিং লেফট”। এরপর দুপুর ১টা ১৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডে এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টাওয়ার থেকে পাঁচবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে দুপুর ১টা ১৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে মোবাইল ফোনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানানো হয়।

সিসিটিভিতে কী দেখা গেছে

বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, মাইলস্টোন স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির উইন্ডশিল্ডে একটি কালো দাগ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো পাখি অথবা উড্ডীয়মান বস্তুর আঘাতে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটিকে দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি; আরও কারিগরি বিশ্লেষণের সুপারিশ করা হয়েছে।

একটি সিঁড়ি, বেড়েছে প্রাণহানি

তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভবনটিতে কার্যত একটি মাত্র জরুরি বের হওয়ার পথ বা সিঁড়ি ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমানটি আঘাত হানে ঠিক সেই অংশেই। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কমিশন ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুমুখী জরুরি নির্গমনপথ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

লাশ গুমের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের মরদেহ গুমের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তদন্ত কমিশন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

ক্ষতিপূরণ ও সংস্কার এখনো ঝুলে আছে

তদন্ত কমিশন আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ফ্লাইট নিরাপত্তা জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন ব্যবস্থার সংস্কার, ফ্লাইং জোনে অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ এবং জনবহুল এলাকার ওপর প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা বিষয়ে ৩০টির বেশি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার এক বছর পরও এসব সুপারিশের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছিল এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।