Dhaka ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের কূটনীতির মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার -দৈনিক প্রান্তিকঃ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভূ-রাজনীতির চেয়ে অর্থনীতিই রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক নির্ধারণে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তিও আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স, জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হতে পারে চীন।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনীতিক, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক। বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদিও এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও এক বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীন সরকারের আন্তরিক আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ-চীন সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যের স্বার্থে এ উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশের অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে বলেও তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি বাংলাদেশের সামনে অন্যতম বড় মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি চীন উপলব্ধি করেছে উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি বাস্তববাদী বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের অগ্রাধিকার ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স অর্জন করি। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।” তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর, কার্যকর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বর্তমান ধারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শাপলা চত্বর মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের কূটনীতির মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৫:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার -দৈনিক প্রান্তিকঃ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভূ-রাজনীতির চেয়ে অর্থনীতিই রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক নির্ধারণে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তিও আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স, জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হতে পারে চীন।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনীতিক, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক। বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদিও এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও এক বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীন সরকারের আন্তরিক আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ-চীন সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যের স্বার্থে এ উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশের অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে বলেও তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি বাংলাদেশের সামনে অন্যতম বড় মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি চীন উপলব্ধি করেছে উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি বাস্তববাদী বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের অগ্রাধিকার ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স অর্জন করি। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।” তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর, কার্যকর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বর্তমান ধারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।