স্টার্টআপের নতুন ধারণায় বিনিয়োগ করবে সরকার, ব্যর্থ হলেও সম্ভাবনাময় উদ্যোগে থাকবে সহায়তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক।
তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন। অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন নতুন স্টার্টআপ ধারণা নিয়ে সরকার কাজ করবে। কোনো উদ্যোগ প্রথমবার ব্যর্থ হলেও তাতে সম্ভাবনা থাকলে পুনরায় অর্থনৈতিক ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার একটি কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়। নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, অর্থায়ন ও বাজারসংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেক মেধাবী তরুণ বিদেশমুখী হচ্ছে। এই মেধাপাচার রোধ করতে হলে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) আওতায় গঠিত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। উদ্যোগের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্বোধন করেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা ধারণা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, বিনিয়োগ সংযোগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়।
৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬-এ তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তহবিল দেশের প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগগুলোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়া, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তরুণ ও নারীর অংশগ্রহণে নতুন অর্থনীতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে স্টার্টআপ শুধু ব্যবসার নতুন মডেল নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল স্রোতে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও সেবা খাতে নতুন ধারণার উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সংযোগ আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সহায়ক নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক। 






















