জহিরুল ইসলাম- উপসম্পাদক, দৈনিক প্রান্তিক
২৮ জুন ২০২৬
প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং। দিন-রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময় না মেনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় পরিস্থিতি বেশি নাজুক বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ ফিরছে না বলে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের ঘাটতি, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সংকটের কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। ঘরে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। এতে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গৃহিণীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গরমজনিত নানা সমস্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘরের মধ্যে থাকা শিশু ও বয়স্কদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে।
দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানাতেও এর প্রভাব পড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করলেও এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কারখানা মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিল্প বিদ্যুতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল, তারা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং হলে অনেক শিক্ষার্থী মোমবাতি বা বিকল্প আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও কষ্টকর হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। কারণ তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জহিরুল ইসলাম- উপসম্পাদক, দৈনিক প্রান্তিক। 























