Dhaka ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথম বিদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রোববার (২১ জুন) বিকেলে তাকে বহনকারী বিমান কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে। দেশটি বর্তমানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। এই প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছে সরকার।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম মুসলিম দেশগুলোর একটি, যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এছাড়া আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

মালয়েশিয়া শেষে চীন সফর

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তার চীন সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রটোকলসংক্রান্ত নথি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

সামার দাভোসে অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়া থেকে ২২ জুন বিকেলে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন।

২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

২৪ জুন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

চীনে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

চীন সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশে চীনের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এ সফরে চীনা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক

২৫ জুন চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

একই দিনে তিনি বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০২:১১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

প্রথম বিদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রোববার (২১ জুন) বিকেলে তাকে বহনকারী বিমান কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে। দেশটি বর্তমানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। এই প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছে সরকার।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম মুসলিম দেশগুলোর একটি, যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এছাড়া আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

মালয়েশিয়া শেষে চীন সফর

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তার চীন সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রটোকলসংক্রান্ত নথি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

সামার দাভোসে অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়া থেকে ২২ জুন বিকেলে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন।

২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

২৪ জুন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

চীনে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

চীন সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশে চীনের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এ সফরে চীনা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক

২৫ জুন চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

একই দিনে তিনি বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।