সামুদ্রিক সম্পদ, নৌ নিরাপত্তা ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশে আধুনিক হাইড্রোগ্রাফির ওপর গুরুত্বারোপ
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমুদ্র এখন আর শুধু ভৌগোলিক সীমারেখার অংশ নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাস্তবতায় ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশেও সামুদ্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র জরিপ ও নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) ২০২৬ সালের বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—“Transforming How Ocean Data is Shared”; যার অর্থ সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিনিময়, ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফি এবং উন্নত সমুদ্র মানচিত্রায়নের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল, সামুদ্রিক গবেষণা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রের সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা, নৌ দুর্ঘটনা কমানো, পরিবেশ রক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকা শুধু একটি ভৌগোলিক পরিসীমা নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। বঙ্গোপসাগরে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন, নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নৌপথের ঝুঁকি হ্রাস এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাইড্রোগ্রাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও নিরাপত্তামূলক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। সমুদ্রপথে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ায় নির্ভুল সমুদ্র মানচিত্র, গভীরতা পরিমাপ ও নৌ-তথ্য ব্যবস্থাপনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফি, জিওস্পেশাল ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং স্বয়ংক্রিয় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে সমুদ্র গবেষণা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতির ধারণা দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। মৎস্য, জ্বালানি, পর্যটন, সমুদ্রবন্দর ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতে সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য হাইড্রোগ্রাফি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সুনীল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
মোঃ আলফাজ উদ্দিন-সম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক। 






















