Dhaka ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিতার স্মৃতির পথ ধরে পাতলী খালে কোদাল চালালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কক্সবাজার প্রতিনিধি:প্রান্তিক।
পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার পর তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্বোধনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যে স্থান থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থান থেকেই পুনঃখননের কাজ শুরু করেন তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষের চারা রোপণ করেন, যা অতীত ও বর্তমানের এক প্রতীকী সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতিহাসের পাতায় পাতলী খাল

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কক্সবাজার সফরকালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় মানুষের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পাতলী খাল খননের উদ্যোগ নেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছ রোপণ করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছর পরও সেই গাছটি এলাকাবাসীর কাছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়দের মতে, একসময় ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনঃখনন হলে কৃষিকাজ, পানি প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খালটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে পানির সরবরাহ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কক্সবাজার সফর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকালে তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছালে বিমানবন্দরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাকে স্বাগত জানান। সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ পাতলী খালের পাড়ে জড়ো হন।

উন্নয়ন, পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সমন্বয়

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পাতলী খালের উদ্বোধন শেষে তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জনসভা ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন এবং রাতে হোটেল লং বীচে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রতীকী মুহূর্তও। প্রায় পাঁচ দশক আগে পিতা যে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে পুত্রের কোদাল চালানো অনেকের কাছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবং উত্তরাধিকার বহনের এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পিতার স্মৃতির পথ ধরে পাতলী খালে কোদাল চালালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিতার স্মৃতির পথ ধরে পাতলী খালে কোদাল চালালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ১১:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি:প্রান্তিক।
পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার পর তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্বোধনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যে স্থান থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থান থেকেই পুনঃখননের কাজ শুরু করেন তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষের চারা রোপণ করেন, যা অতীত ও বর্তমানের এক প্রতীকী সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতিহাসের পাতায় পাতলী খাল

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কক্সবাজার সফরকালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় মানুষের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পাতলী খাল খননের উদ্যোগ নেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছ রোপণ করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছর পরও সেই গাছটি এলাকাবাসীর কাছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়দের মতে, একসময় ভরাট হয়ে যাওয়া এই খাল পুনঃখনন হলে কৃষিকাজ, পানি প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খালটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে পানির সরবরাহ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কক্সবাজার সফর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকালে তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছালে বিমানবন্দরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাকে স্বাগত জানান। সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ পাতলী খালের পাড়ে জড়ো হন।

উন্নয়ন, পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সমন্বয়

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পাতলী খালের উদ্বোধন শেষে তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জনসভা ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক, সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন এবং রাতে হোটেল লং বীচে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রতীকী মুহূর্তও। প্রায় পাঁচ দশক আগে পিতা যে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, সেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে পুত্রের কোদাল চালানো অনেকের কাছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবং উত্তরাধিকার বহনের এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।