Dhaka ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সক্রিয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঝটিকা মিছিল, সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সূত্র।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের নজর এড়াতে এক এলাকার কর্মীদের অন্য এলাকায় এনে কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীকে দুই ভাগে ভাগ করে আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে এসব তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কয়েকজন প্রশিক্ষিত ক্যাডার। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। টহল পুলিশ, জনসমাগম ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে অস্থায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নির্দেশনা আদান-প্রদান করা হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপ ডিঅ্যাকটিভ করে দেওয়া হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের অনেকেই স্থানীয় নন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও পাহাড়ি এলাকা থেকে এনে তাদের জড়ো করা হয়। কেউ কেউ দুই স্তরের পোশাক পরে আসেন, যাতে মিছিল শেষে দ্রুত পোশাক বদলে এলাকা ত্যাগ করা যায়। মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট খুলে চলাচলের ঘটনাও নজরে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

গত সোমবার নগরীর জিইসি মোড় এবং বুধবার অক্সিজেন এলাকায় বড় ধরনের ঝটিকা মিছিলের পর অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকা থেকে আসা যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে সিএমপি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, কারা নেপথ্যে সমন্বয় করছে—এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে আনা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পিসি কার্ডে নিয়মিত টাকা জমা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা তালিকা ধরে জেলগেটে এসে টাকা জমা করছেন। এসব অর্থের উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, চালানো হচ্ছে নিয়মিত অভিযান। পুলিশের দাবি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা দ্রুত প্রতিহত করা হবে।

সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছি।”

রাজনীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, রাজনৈতিক বিভক্তি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চট্টগ্রামে সক্রিয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

Update Time : ০৬:২৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঝটিকা মিছিল, সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সূত্র।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের নজর এড়াতে এক এলাকার কর্মীদের অন্য এলাকায় এনে কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীকে দুই ভাগে ভাগ করে আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে এসব তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কয়েকজন প্রশিক্ষিত ক্যাডার। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। টহল পুলিশ, জনসমাগম ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে অস্থায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নির্দেশনা আদান-প্রদান করা হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপ ডিঅ্যাকটিভ করে দেওয়া হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের অনেকেই স্থানীয় নন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও পাহাড়ি এলাকা থেকে এনে তাদের জড়ো করা হয়। কেউ কেউ দুই স্তরের পোশাক পরে আসেন, যাতে মিছিল শেষে দ্রুত পোশাক বদলে এলাকা ত্যাগ করা যায়। মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট খুলে চলাচলের ঘটনাও নজরে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

গত সোমবার নগরীর জিইসি মোড় এবং বুধবার অক্সিজেন এলাকায় বড় ধরনের ঝটিকা মিছিলের পর অভিযান চালিয়ে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকা থেকে আসা যুবলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে সিএমপি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, কারা নেপথ্যে সমন্বয় করছে—এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে আনা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পিসি কার্ডে নিয়মিত টাকা জমা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা তালিকা ধরে জেলগেটে এসে টাকা জমা করছেন। এসব অর্থের উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, চালানো হচ্ছে নিয়মিত অভিযান। পুলিশের দাবি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা দ্রুত প্রতিহত করা হবে।

সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছি।”

রাজনীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, রাজনৈতিক বিভক্তি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।