গোধূলির নরম আলো তখন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল পশ্চিম আকাশে। দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে মানুষ যখন সন্ধ্যার আকাশে এক টুকরো আশার রেখা খুঁজছিল, ঠিক তখনই দেশের আকাশে দেখা মিলল পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদের। সেই চাঁদ যেন শুধু এক খণ্ড রুপালি রেখা নয়—বরং কোরবানির মহিমা, ত্যাগের আহ্বান আর মিলনের উৎসবের বার্তা নিয়ে এলো বাঙালির ঘরে ঘরে।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেশের আকাশে উদিত হয়েছে। বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে পবিত্র জিলহজ মাসের গণনা। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার, সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।
ঈদ-উল-আযহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মত্যাগের এক চিরন্তন শিক্ষা। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর অনুপম ত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে প্রতি বছর এই উৎসব আসে মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা আর আত্মশুদ্ধির বাণী নিয়ে। তাই চাঁদ দেখার এই ক্ষণ যেন গ্রামবাংলার উঠোন থেকে নগরীর ব্যস্ত ছাদ পর্যন্ত এক আবেগময় প্রতীক্ষার অবসান।
এদিকে ঈদকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে মানুষের ঘরে ফেরার প্রস্তুতি। সরকার এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, যা শুরু হবে আগামী ২৫ মে থেকে। অন্যদিকে দেশের পোশাক কারখানাগুলোও ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে কর্মব্যস্ত নগরী ছেড়ে লাখো মানুষ ফিরবে তাদের শেকড়ের কাছে—মায়ের মুখ, গ্রামের পথ আর শৈশবের উঠোনে।
চাঁদের এই কোমল আলো তাই কেবল আকাশে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মনেও। সামনে আসছে ত্যাগ, ভালোবাসা আর পুনর্মিলনের মহিমান্বিত এক উৎসব—পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।

















