রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. মো. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মো. জুয়েল রানা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় দুই সাবেক পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও চরম অবহেলা দেখানো হয়। মামলার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগ উঠে আসে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার ভিডিও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সেই ঘটনা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী ঘটনায় পরিণত হয়।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে ২০২৫ সালের জুনে এবং একই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও সাবেক ভিসিসহ বেশ কয়েকজন আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের পর ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভের মুখে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপাচার্যের পদ ছাড়েন ড. হাসিবুর রশীদ। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রান্তিক প্রতিবেদন 

















